সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় তরুণ সাংবাদিকদের প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে সার্কিট হাউস ত্যাগ তরুণ

গাইবান্ধায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রকৃত তরুণ ও কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন একদল তরুণ সাংবাদিক।
তরুণ সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
তাদের দাবি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত হলে একই বা বয়োজ্যেষ্ঠ কিছু সাংবাদিক বারবার অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও নতুন ও তরুণ সাংবাদিকদের অনেকেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে ২০২৪ সালেও তরুণ সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলে তারা জানান।
এবারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে একই পরিবারের দুজন, শিক্ষকসহ কয়েকজনের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারী সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কর্মরত অনেক তরুণ সাংবাদিককে বাদ দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পরে বিষয়টি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামানের নজরে এলে তিনি তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তরুণ সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে যারা একবার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের পুনরায় প্রশিক্ষণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার কথা জানান তিনি।
জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর তরুণ সাংবাদিকরা সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন। জেলা প্রশাসককে জেলার অভিভাবক হিসেবে সম্মান জানিয়ে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
তরুণ সাংবাদিকরা বলেন, প্রশিক্ষণের সুযোগ বণ্টনে স্বচ্ছ নীতিমালা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অসন্তোষ আর থাকবে না। তারা ভবিষ্যতে প্রকৃত কর্মরত ও নতুন সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
প্রশিক্ষণে কী কী সুবিধা থাকে
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাংবাদিকতার নীতিমালা, আচরণবিধি ও অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণের নিয়ম ও নির্ধারিত বাজেট অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত বা দৈনিক ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে পেশাগত যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
তবে গাইবান্ধার তরুণ সাংবাদিকদের অভিযোগ, এসব সুযোগ বণ্টনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

গাইবান্ধায় জেলা শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

গাইবান্ধায় তরুণ সাংবাদিকদের প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে সার্কিট হাউস ত্যাগ তরুণ

Update Time : ০৬:৪৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রকৃত তরুণ ও কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন একদল তরুণ সাংবাদিক।
তরুণ সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
তাদের দাবি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত হলে একই বা বয়োজ্যেষ্ঠ কিছু সাংবাদিক বারবার অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও নতুন ও তরুণ সাংবাদিকদের অনেকেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে ২০২৪ সালেও তরুণ সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলে তারা জানান।
এবারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে একই পরিবারের দুজন, শিক্ষকসহ কয়েকজনের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারী সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কর্মরত অনেক তরুণ সাংবাদিককে বাদ দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পরে বিষয়টি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামানের নজরে এলে তিনি তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তরুণ সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে যারা একবার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের পুনরায় প্রশিক্ষণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার কথা জানান তিনি।
জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর তরুণ সাংবাদিকরা সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন। জেলা প্রশাসককে জেলার অভিভাবক হিসেবে সম্মান জানিয়ে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
তরুণ সাংবাদিকরা বলেন, প্রশিক্ষণের সুযোগ বণ্টনে স্বচ্ছ নীতিমালা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অসন্তোষ আর থাকবে না। তারা ভবিষ্যতে প্রকৃত কর্মরত ও নতুন সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
প্রশিক্ষণে কী কী সুবিধা থাকে
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাংবাদিকতার নীতিমালা, আচরণবিধি ও অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণের নিয়ম ও নির্ধারিত বাজেট অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত বা দৈনিক ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে পেশাগত যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
তবে গাইবান্ধার তরুণ সাংবাদিকদের অভিযোগ, এসব সুযোগ বণ্টনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।