সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ও খোলাহাটি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ঝিনিয়ার বিলে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন করেছেন স্থানীয় কৃষক, জমির মালিক ও সাধারণ মানুষ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ৭৫ নম্বর রেলগেট এলাকার পাশে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত খাল খনন কর্মসূচিতে দুই ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জমির মালিক ও কৃষকরাও অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কুপতলা ও খোলাহাটি ইউনিয়নের মাঝামাঝি ঝিনিয়ার বিলে প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকায় শুকনো মৌসুমেও অনেক জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই জমিতে পানি জমে যায়। ফলে কৃষকদের পানির মধ্যে ধান কাটতে হয় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়। আমন মৌসুমেও জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হয়।
কৃষকরা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে খালটি পুনঃখননের জন্য অতীতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি। এ অবস্থায় নিজেদের উদ্যোগে পুরোনো খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করেছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝিনিয়ার বিলে আগে থেকেই একটি খাল ছিল। খালটি ঝিনিয়ার বিল থেকে টাকিমারী বিল হয়ে ঘাঘট নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এর ফলে বিলের প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
খালটি স্থায়ীভাবে পুনঃখনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ঝিনিয়ার বিলের খালটিও অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান তারা।
খাল খননকালে কুপতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসনাই আল আরাফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, কুপতলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শাকিল প্রামাণিক, সাধারণ সম্পাদক জাহির হোসেন, সদর থানা কমিটির বায়তুল মাল সম্পাদক জামিরুল ইসলাম, সদস্য আব্দুল্লাহ ইউসুফসহ দুই ইউনিয়নের জমির মালিক ও কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

গাইবান্ধায় জেলা শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

গাইবান্ধায় জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন

Update Time : ০৭:৪২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ও খোলাহাটি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ঝিনিয়ার বিলে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন করেছেন স্থানীয় কৃষক, জমির মালিক ও সাধারণ মানুষ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ৭৫ নম্বর রেলগেট এলাকার পাশে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত খাল খনন কর্মসূচিতে দুই ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জমির মালিক ও কৃষকরাও অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কুপতলা ও খোলাহাটি ইউনিয়নের মাঝামাঝি ঝিনিয়ার বিলে প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকায় শুকনো মৌসুমেও অনেক জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই জমিতে পানি জমে যায়। ফলে কৃষকদের পানির মধ্যে ধান কাটতে হয় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়। আমন মৌসুমেও জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হয়।
কৃষকরা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে খালটি পুনঃখননের জন্য অতীতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি। এ অবস্থায় নিজেদের উদ্যোগে পুরোনো খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করেছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝিনিয়ার বিলে আগে থেকেই একটি খাল ছিল। খালটি ঝিনিয়ার বিল থেকে টাকিমারী বিল হয়ে ঘাঘট নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এর ফলে বিলের প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
খালটি স্থায়ীভাবে পুনঃখনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ঝিনিয়ার বিলের খালটিও অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান তারা।
খাল খননকালে কুপতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসনাই আল আরাফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, কুপতলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শাকিল প্রামাণিক, সাধারণ সম্পাদক জাহির হোসেন, সদর থানা কমিটির বায়তুল মাল সম্পাদক জামিরুল ইসলাম, সদস্য আব্দুল্লাহ ইউসুফসহ দুই ইউনিয়নের জমির মালিক ও কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।