সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামলার নথি গায়েব: আইনজীবী, সাবেক কোর্ট জিআরওসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানো, আদালতের অর্ডার শিটে কাটাকাটি এবং মামলার নথি গায়েবের অভিযোগে জেলা বারের এক আইনজীবী, তার মুহুরি ও সাবেক কোর্ট জিআরওর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজের নির্দেশে গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগ ওঠে জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় আদালতের নথি গায়েব এবং অর্ডার শিটের আদেশ কাটাকাটির অভিযোগও তদন্তে আসে।
অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসানকে দায়িত্ব দেয় শিশু আদালত-২। তিনি গত ১৯ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল এবং তার মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিলের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে আদালতের একটি পর্যবেক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ৩০ আগস্ট শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত আদেশ গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৌঁছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
মামলার পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

গাইবান্ধায় জেলা শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

মামলার নথি গায়েব: আইনজীবী, সাবেক কোর্ট জিআরওসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : ০৭:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানো, আদালতের অর্ডার শিটে কাটাকাটি এবং মামলার নথি গায়েবের অভিযোগে জেলা বারের এক আইনজীবী, তার মুহুরি ও সাবেক কোর্ট জিআরওর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজের নির্দেশে গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগ ওঠে জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় আদালতের নথি গায়েব এবং অর্ডার শিটের আদেশ কাটাকাটির অভিযোগও তদন্তে আসে।
অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসানকে দায়িত্ব দেয় শিশু আদালত-২। তিনি গত ১৯ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল এবং তার মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিলের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে আদালতের একটি পর্যবেক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ৩০ আগস্ট শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত আদেশ গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৌঁছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
মামলার পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।