সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইসিসিবিতে পাকিস্তানি পণ্যের প্রদর্শনী, সঙ্গে চামড়া ও গাড়ির বাজার

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) একই সময়ে চলছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, চামড়াজাত পণ্য ও গাড়ি কেনাবেচাকে ঘিরে একাধিক আয়োজন। ‘চতুর্থ মেড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনী, দশম আন্তর্জাতিক চামড়া ও জুতা প্রদর্শনী এবং সাপ্তাহিক ‘সুপার সেল কার বাজার’ ঘিরে ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ছিল ব্যাপক উপস্থিতি।
আইসিসিবির গুলনকশা হলে পাঁচ দিনব্যাপী ‘চতুর্থ মেড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনীর আজ শেষ দিন। এতে পাকিস্তানের বিভিন্ন খাতের শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তৈরি পোশাক, কসমেটিকস, ক্রীড়াসামগ্রী, গয়না, খাদ্য ও পানীয়, চামড়াজাত পণ্য ও সুগন্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারি তৈরিই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আইসিসিবির নবরাত্রি হলে চলছে তিন দিনব্যাপী দশম আন্তর্জাতিক চামড়া ও জুতা প্রদর্শনী। আজ এ প্রদর্শনীরও শেষ দিন। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশের ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে।
প্রদর্শনীতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, ক্রীড়া পোশাক, জুতা তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি, উৎপাদন উপকরণ, রাসায়নিক দ্রব্য ও খুচরা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি এবং লিমরা এক্সিবিশন যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে।
ছুটির দিনে এ প্রদর্শনীতেও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। দেশীয় প্রতিষ্ঠান ডির লেদার চামড়ার ব্যাগ, বেল্ট, জুতা ও মানিব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ফরিদা ইয়াসমিন বিথি বলেন, ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। শেষ দিনেও আরও বেশি সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তারা।
এদিকে আইসিসিবিতে প্রতি শুক্রবার বসছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বাজার গতকাল চতুর্থ সপ্তাহে পা দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে এ আয়োজনের পরিসর এবং ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি বাড়ছে।
নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি একই জায়গায় দেখার পাশাপাশি সরাসরি দরদাম করে কেনাবেচার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে। প্রায় এক লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে আয়োজিত এবারের কার বাজারে রয়েছে ৩০০টিরও বেশি গাড়ি। প্রথম সপ্তাহে গাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ১২৭টি। চার সপ্তাহের ব্যবধানে গাড়ির উপস্থিতি বেড়েছে তিন গুণের বেশি।
আয়োজকদের দাবি, এক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি থাকায় ক্রেতারা একই সঙ্গে প্রায় ৫০টি শোরুম ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।
কার বাজারের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে আধুনিক আরভি ভেহিকল। ভ্রমণের সময় এতে অস্থায়ীভাবে থাকা, ঘুমানো ও রান্নাবান্নার মতো সুবিধা রয়েছে। পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এ ধরনের গাড়ির প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ দেখা গেছে। পাশাপাশি গাড়িগুলোর জন্য ‘হুন্দাই’-এর সার্বক্ষণিক কার চেকআপ সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আইসিসিবির ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান মোল্লা জানান, সকাল থেকেই দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু গাড়ি বিক্রি হয়েছে এবং আরও অনেক গাড়ি বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।
সব মিলিয়ে আইসিসিবিতে চলমান এসব আয়োজন রাজধানীর ক্রেতা, দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য একই সঙ্গে পণ্য প্রদর্শন, বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও কেনাবেচার সুযোগ তৈরি করেছে। ছুটির দিনে তিন আয়োজনকে ঘিরে মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে আইসিসিবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

গাইবান্ধায় জেলা শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আইসিসিবিতে পাকিস্তানি পণ্যের প্রদর্শনী, সঙ্গে চামড়া ও গাড়ির বাজার

Update Time : ০৭:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) একই সময়ে চলছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, চামড়াজাত পণ্য ও গাড়ি কেনাবেচাকে ঘিরে একাধিক আয়োজন। ‘চতুর্থ মেড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনী, দশম আন্তর্জাতিক চামড়া ও জুতা প্রদর্শনী এবং সাপ্তাহিক ‘সুপার সেল কার বাজার’ ঘিরে ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ছিল ব্যাপক উপস্থিতি।
আইসিসিবির গুলনকশা হলে পাঁচ দিনব্যাপী ‘চতুর্থ মেড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনীর আজ শেষ দিন। এতে পাকিস্তানের বিভিন্ন খাতের শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তৈরি পোশাক, কসমেটিকস, ক্রীড়াসামগ্রী, গয়না, খাদ্য ও পানীয়, চামড়াজাত পণ্য ও সুগন্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারি তৈরিই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আইসিসিবির নবরাত্রি হলে চলছে তিন দিনব্যাপী দশম আন্তর্জাতিক চামড়া ও জুতা প্রদর্শনী। আজ এ প্রদর্শনীরও শেষ দিন। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশের ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে।
প্রদর্শনীতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, ক্রীড়া পোশাক, জুতা তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি, উৎপাদন উপকরণ, রাসায়নিক দ্রব্য ও খুচরা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি এবং লিমরা এক্সিবিশন যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে।
ছুটির দিনে এ প্রদর্শনীতেও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। দেশীয় প্রতিষ্ঠান ডির লেদার চামড়ার ব্যাগ, বেল্ট, জুতা ও মানিব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ফরিদা ইয়াসমিন বিথি বলেন, ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। শেষ দিনেও আরও বেশি সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তারা।
এদিকে আইসিসিবিতে প্রতি শুক্রবার বসছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বাজার গতকাল চতুর্থ সপ্তাহে পা দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে এ আয়োজনের পরিসর এবং ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি বাড়ছে।
নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি একই জায়গায় দেখার পাশাপাশি সরাসরি দরদাম করে কেনাবেচার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে। প্রায় এক লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে আয়োজিত এবারের কার বাজারে রয়েছে ৩০০টিরও বেশি গাড়ি। প্রথম সপ্তাহে গাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ১২৭টি। চার সপ্তাহের ব্যবধানে গাড়ির উপস্থিতি বেড়েছে তিন গুণের বেশি।
আয়োজকদের দাবি, এক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি থাকায় ক্রেতারা একই সঙ্গে প্রায় ৫০টি শোরুম ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।
কার বাজারের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে আধুনিক আরভি ভেহিকল। ভ্রমণের সময় এতে অস্থায়ীভাবে থাকা, ঘুমানো ও রান্নাবান্নার মতো সুবিধা রয়েছে। পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এ ধরনের গাড়ির প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ দেখা গেছে। পাশাপাশি গাড়িগুলোর জন্য ‘হুন্দাই’-এর সার্বক্ষণিক কার চেকআপ সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আইসিসিবির ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান মোল্লা জানান, সকাল থেকেই দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু গাড়ি বিক্রি হয়েছে এবং আরও অনেক গাড়ি বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।
সব মিলিয়ে আইসিসিবিতে চলমান এসব আয়োজন রাজধানীর ক্রেতা, দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য একই সঙ্গে পণ্য প্রদর্শন, বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও কেনাবেচার সুযোগ তৈরি করেছে। ছুটির দিনে তিন আয়োজনকে ঘিরে মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে আইসিসিবি।