সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বনভূমির ওপর রিসোর্ট, সাভারে ‘এগ্রো ট্যুরিজম’ প্রকল্পে বড় ঝুঁকি

সাভারের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার কামালপুরে প্রায় ১৭ একর জমিকে ঘিরে ‘এগ্রো ট্যুরিজম ও রিসোর্ট’ নামে একটি প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উদ্যোক্তাদের প্রচারণায় প্রকল্পটিকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরা হলেও জমির মালিকানা ও ব্যবহারাধিকার, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, পরিবেশগত প্রভাব এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য ও পরিকল্পনা পর্যালোচনায় প্রশ্ন উঠছে, প্রকল্পের আওতাভুক্ত জমির কতটুকু বনভূমি, কতটুকু কৃষিজমি এবং এসব জমি বাণিজ্যিক পর্যটন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য কী ধরনের সরকারি অনুমোদন রয়েছে। বিশেষ করে বনভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমতি, চুক্তির ধরন, মেয়াদ ও শর্ত এবং সেই চুক্তির আওতায় রিসোর্ট বা পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ রয়েছে কি না—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বন বিভাগের জমি লিজ বা চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারের কথা বলা হলেও সেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি বনভূমি কোনো নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও সেটি ব্যক্তিগত মালিকানা বা স্থায়ী বাণিজ্যিক মালিকানা সৃষ্টি করে কি না, সেটিও যাচাইয়ের বিষয়।
চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন বাতিল করলে জমি পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, সেটিও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কৃষিজমি ব্যবহারের প্রশ্ন
প্রকল্পের আওতায় রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণের জন্য আশপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি কেনা বা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে। এসব জমির ভূমি শ্রেণি পরিবর্তন, বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ এবং পর্যটন প্রকল্পে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও ভূমি ব্যবহার বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা যাচাই প্রয়োজন।
কৃষিজমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ফলে কৃষি উৎপাদনের জমি কমার পাশাপাশি স্থানীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বনাঞ্চল, কৃষিজমি ও জলাধারসংলগ্ন এলাকায় বড় আকারের পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ হলে এর পরিবেশগত প্রভাব আলাদাভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন
সাভারের ওই এলাকায় বনাঞ্চল, কৃষিজমি ও জলাধারকে ঘিরে স্থানীয় একটি পরিবেশব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বড় পরিসরে পর্যটন কার্যক্রম চালু হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের চাপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ ও পানির ব্যবহার বাড়ার মতো বিষয়গুলো স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের আকার ও প্রকৃতি অনুযায়ী কোন কোন অনুমোদন প্রয়োজন এবং সেগুলো বাস্তবে নেওয়া হয়েছে কি না—সরকারি নথির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিনিয়োগকারীদের অর্থ কতটা সুরক্ষিত?
প্রকল্পের প্রচারণায় সীমিত সংখ্যক শেয়ার বিক্রি করে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা বলা হলেও প্রকল্পের মোট ব্যয়, শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার, লভ্যাংশ বণ্টন, জমির ব্যবহারাধিকার এবং প্রকল্প ব্যর্থ হলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি।
বিশেষ করে প্রকল্পের মূল জমি যদি লিজ বা সীমিত ব্যবহারের অধিকারে থাকে, তাহলে সেই জমির ওপর বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত অধিকার কী—এ প্রশ্ন সামনে আসে। জমির মালিকানা বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব না হলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন ও চুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
কোনো পর্যায়ে অনুমোদন বাতিল হলে বা জমি পুনরুদ্ধার করা হলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ারের মূল্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ও আইনসম্মত কাঠামো থাকা প্রয়োজন।
‘এগ্রো ট্যুরিজম’ নাকি বাণিজ্যিক রিসোর্ট?
প্রকল্পটির পক্ষে কৃষি ও পর্যটনকে একসঙ্গে যুক্ত করে স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে বনভূমি ও কৃষিজমির ওপর কটেজ, রিসোর্ট ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠলে প্রকল্পটির প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
একটি এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে সাধারণত কৃষিকাজ, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে থাকে। ফলে প্রকল্পের বাস্তব কার্যক্রম, জমির ব্যবহার এবং অবকাঠামোর ধরন প্রচারিত ‘এগ্রো ট্যুরিজম’ ধারণার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সেটিও যাচাইয়ের বিষয়।
নথি যাচাই জরুরি
সব মিলিয়ে সাভারের কামালপুরে প্রস্তাবিত এগ্রো ট্যুরিজম ও রিসোর্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমির প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবহারাধিকার, বন বিভাগের অনুমতি ও চুক্তিপত্র, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূমি ব্যবহারের বৈধতা এবং বিনিয়োগ কাঠামো সম্পর্কে স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
বিশেষ করে বনভূমির ওপর প্রকল্পের অধিকার যদি লিজ বা সীমিত ব্যবহারের মধ্যে থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—তা চুক্তি ও আইনগত নথির মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূমি ব্যবহারের বৈধতা এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষার কাঠামো নিশ্চিত করার আগে প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

গাইবান্ধায় জেলা শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

বনভূমির ওপর রিসোর্ট, সাভারে ‘এগ্রো ট্যুরিজম’ প্রকল্পে বড় ঝুঁকি

Update Time : ০৪:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার কামালপুরে প্রায় ১৭ একর জমিকে ঘিরে ‘এগ্রো ট্যুরিজম ও রিসোর্ট’ নামে একটি প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উদ্যোক্তাদের প্রচারণায় প্রকল্পটিকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরা হলেও জমির মালিকানা ও ব্যবহারাধিকার, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, পরিবেশগত প্রভাব এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য ও পরিকল্পনা পর্যালোচনায় প্রশ্ন উঠছে, প্রকল্পের আওতাভুক্ত জমির কতটুকু বনভূমি, কতটুকু কৃষিজমি এবং এসব জমি বাণিজ্যিক পর্যটন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য কী ধরনের সরকারি অনুমোদন রয়েছে। বিশেষ করে বনভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমতি, চুক্তির ধরন, মেয়াদ ও শর্ত এবং সেই চুক্তির আওতায় রিসোর্ট বা পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ রয়েছে কি না—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বন বিভাগের জমি লিজ বা চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারের কথা বলা হলেও সেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি বনভূমি কোনো নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও সেটি ব্যক্তিগত মালিকানা বা স্থায়ী বাণিজ্যিক মালিকানা সৃষ্টি করে কি না, সেটিও যাচাইয়ের বিষয়।
চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন বাতিল করলে জমি পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, সেটিও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কৃষিজমি ব্যবহারের প্রশ্ন
প্রকল্পের আওতায় রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণের জন্য আশপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি কেনা বা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে। এসব জমির ভূমি শ্রেণি পরিবর্তন, বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ এবং পর্যটন প্রকল্পে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও ভূমি ব্যবহার বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা যাচাই প্রয়োজন।
কৃষিজমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ফলে কৃষি উৎপাদনের জমি কমার পাশাপাশি স্থানীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বনাঞ্চল, কৃষিজমি ও জলাধারসংলগ্ন এলাকায় বড় আকারের পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ হলে এর পরিবেশগত প্রভাব আলাদাভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন
সাভারের ওই এলাকায় বনাঞ্চল, কৃষিজমি ও জলাধারকে ঘিরে স্থানীয় একটি পরিবেশব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বড় পরিসরে পর্যটন কার্যক্রম চালু হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের চাপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ ও পানির ব্যবহার বাড়ার মতো বিষয়গুলো স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের আকার ও প্রকৃতি অনুযায়ী কোন কোন অনুমোদন প্রয়োজন এবং সেগুলো বাস্তবে নেওয়া হয়েছে কি না—সরকারি নথির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিনিয়োগকারীদের অর্থ কতটা সুরক্ষিত?
প্রকল্পের প্রচারণায় সীমিত সংখ্যক শেয়ার বিক্রি করে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা বলা হলেও প্রকল্পের মোট ব্যয়, শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার, লভ্যাংশ বণ্টন, জমির ব্যবহারাধিকার এবং প্রকল্প ব্যর্থ হলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি।
বিশেষ করে প্রকল্পের মূল জমি যদি লিজ বা সীমিত ব্যবহারের অধিকারে থাকে, তাহলে সেই জমির ওপর বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত অধিকার কী—এ প্রশ্ন সামনে আসে। জমির মালিকানা বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব না হলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন ও চুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
কোনো পর্যায়ে অনুমোদন বাতিল হলে বা জমি পুনরুদ্ধার করা হলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ারের মূল্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ও আইনসম্মত কাঠামো থাকা প্রয়োজন।
‘এগ্রো ট্যুরিজম’ নাকি বাণিজ্যিক রিসোর্ট?
প্রকল্পটির পক্ষে কৃষি ও পর্যটনকে একসঙ্গে যুক্ত করে স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে বনভূমি ও কৃষিজমির ওপর কটেজ, রিসোর্ট ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠলে প্রকল্পটির প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
একটি এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে সাধারণত কৃষিকাজ, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে থাকে। ফলে প্রকল্পের বাস্তব কার্যক্রম, জমির ব্যবহার এবং অবকাঠামোর ধরন প্রচারিত ‘এগ্রো ট্যুরিজম’ ধারণার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সেটিও যাচাইয়ের বিষয়।
নথি যাচাই জরুরি
সব মিলিয়ে সাভারের কামালপুরে প্রস্তাবিত এগ্রো ট্যুরিজম ও রিসোর্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমির প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবহারাধিকার, বন বিভাগের অনুমতি ও চুক্তিপত্র, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূমি ব্যবহারের বৈধতা এবং বিনিয়োগ কাঠামো সম্পর্কে স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
বিশেষ করে বনভূমির ওপর প্রকল্পের অধিকার যদি লিজ বা সীমিত ব্যবহারের মধ্যে থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—তা চুক্তি ও আইনগত নথির মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূমি ব্যবহারের বৈধতা এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষার কাঠামো নিশ্চিত করার আগে প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।