সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেলার মামলায় কক্সবাজারের সড়ক প্রকল্প আটকে আছে: মীর শাহে আলম

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প আইনি জটিলতায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা মামলার পর আদালতের নির্দেশনায় লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রস্তাবিত সড়ক প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।
শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের উন্নয়নে সরকার যখনই কোনো উদ্যোগ নেয়, তখনই আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এমন হলে কক্সবাজার শহরকে সাজাব কিভাবে?’
মীর শাহে আলম জানান, লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীর ধরে হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল। কাজ শুরুর আগেই আদালতের নির্দেশনার কারণে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
তবে বেলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমুদ্রসৈকত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় সড়ক নির্মাণ হলে পরিবেশ, বালিয়াড়ি ও প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সংগঠনটি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সড়ক নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। পর্যটন মৌসুমে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে এলেও তাঁদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া যায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ রয়েছে। আবার সমুদ্রতীর থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পর্যটন নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
এর আগে শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মীর শাহে আলম।
এ সময় তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

গাইবান্ধায় জেলা শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

বেলার মামলায় কক্সবাজারের সড়ক প্রকল্প আটকে আছে: মীর শাহে আলম

Update Time : ০৭:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প আইনি জটিলতায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা মামলার পর আদালতের নির্দেশনায় লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রস্তাবিত সড়ক প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।
শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের উন্নয়নে সরকার যখনই কোনো উদ্যোগ নেয়, তখনই আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এমন হলে কক্সবাজার শহরকে সাজাব কিভাবে?’
মীর শাহে আলম জানান, লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীর ধরে হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল। কাজ শুরুর আগেই আদালতের নির্দেশনার কারণে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
তবে বেলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমুদ্রসৈকত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় সড়ক নির্মাণ হলে পরিবেশ, বালিয়াড়ি ও প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সংগঠনটি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সড়ক নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। পর্যটন মৌসুমে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে এলেও তাঁদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া যায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ রয়েছে। আবার সমুদ্রতীর থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পর্যটন নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
এর আগে শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মীর শাহে আলম।
এ সময় তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।