বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধা আদালতে ৯ মাসে ৬ হাজার ৮৪৯ মামলা নিষ্পত্তি

গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৬ হাজার ৮৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, জেলার ইতিহাসে এটি রেকর্ডসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির ঘটনা। তবে বিচারক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আদালতের নাজির মো. রেজাউল করিম সরকার জানান, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে সিআর, জিআরসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১ জানুয়ারি গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলা ছিল ১৮ হাজার ৯৫৬টি। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে ৭ হাজার ৭৮৩টি মামলা দায়ের হয়। এ ছাড়া জেলা জজ আদালত থেকে পাঁচ লাখ টাকার কম মূল্যের চেকসংক্রান্ত মামলাসহ বিভিন্ন মামলা বদলির মাধ্যমে এ আদালতে আসে। সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজার ২১৩টিতে।
একই সময়ে বিভিন্ন আদালতে ২১ হাজার ৯৭টি মামলা বদলি করা হয়। বর্তমানে এ আদালতে ১৯ হাজার ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আদালত সূত্র আরও জানায়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিচারকের মোট ১১টি পদের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সাতজন বিচারক। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতিও রয়েছে আদালতে।
বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাইবান্ধায় যোগদানের পর মামলা নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে। বিচারকদের তৎপরতা এবং নিয়মিত সাক্ষী হাজির নিশ্চিত করার উদ্যোগে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন।
গাইবান্ধা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হিপজুর আলম মুন্সী বলেন, নির্ধারিত দিনে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় অনেক সময় মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়। তবে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকদের তাগাদার কারণে সময়মতো সাক্ষী হাজির নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এতে গত নয় মাসে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সম্প্রতি এ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার বেড়েছে। এতে বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা আদালতে ৯ মাসে ৬ হাজার ৮৪৯ মামলা নিষ্পত্তি

Update Time : ০৪:১৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৬ হাজার ৮৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, জেলার ইতিহাসে এটি রেকর্ডসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির ঘটনা। তবে বিচারক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আদালতের নাজির মো. রেজাউল করিম সরকার জানান, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে সিআর, জিআরসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১ জানুয়ারি গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলা ছিল ১৮ হাজার ৯৫৬টি। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে ৭ হাজার ৭৮৩টি মামলা দায়ের হয়। এ ছাড়া জেলা জজ আদালত থেকে পাঁচ লাখ টাকার কম মূল্যের চেকসংক্রান্ত মামলাসহ বিভিন্ন মামলা বদলির মাধ্যমে এ আদালতে আসে। সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজার ২১৩টিতে।
একই সময়ে বিভিন্ন আদালতে ২১ হাজার ৯৭টি মামলা বদলি করা হয়। বর্তমানে এ আদালতে ১৯ হাজার ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আদালত সূত্র আরও জানায়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিচারকের মোট ১১টি পদের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সাতজন বিচারক। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতিও রয়েছে আদালতে।
বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাইবান্ধায় যোগদানের পর মামলা নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে। বিচারকদের তৎপরতা এবং নিয়মিত সাক্ষী হাজির নিশ্চিত করার উদ্যোগে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন।
গাইবান্ধা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হিপজুর আলম মুন্সী বলেন, নির্ধারিত দিনে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় অনেক সময় মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়। তবে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকদের তাগাদার কারণে সময়মতো সাক্ষী হাজির নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এতে গত নয় মাসে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সম্প্রতি এ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার বেড়েছে। এতে বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হচ্ছেন।