বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধা হাসপাতালের মর্গে মরদেহ সংরক্ষণে সংকট মৃত্যুর পরও ভোগান্তি,

প্রিয়জনকে হারানোর শোক নিয়েই হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করতে হয় স্বজনদের। কখন ময়নাতদন্ত শেষ হবে, কখন মরদেহ বুঝে পাবেন—এই উৎকণ্ঠার সঙ্গে যোগ হয় মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা। গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তিতে পড়ছেন মরদেহের স্বজনরা।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দুর্ঘটনা, হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা, পানিতে ডুবে মৃত্যু কিংবা অন্যান্য অপমৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আনা হয় গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মর্গটির ওপর নির্ভরশীল জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সংরক্ষণ সুবিধা, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা কতটা পর্যাপ্ত—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, কোনো কোনো ঘটনায় ময়নাতদন্ত শেষ হতে সময় লাগলে তাদের দীর্ঘক্ষণ হাসপাতাল চত্বরে অপেক্ষা করতে হয়। দূরের উপজেলা থেকে আসা পরিবারের সদস্যদের জন্য এই অপেক্ষা আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। প্রিয়জন হারানোর শোকের মধ্যে মরদেহ গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও তাদের নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
এক স্বজন বলেন, “আপন মানুষকে হারানোর কষ্ট তো আছেই। তার ওপর কখন মরদেহ পাব, কোথায় রাখা হচ্ছে—এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। মর্গে ভালো ব্যবস্থা থাকলে অন্তত এই ভোগান্তিটা কমত।”
একসঙ্গে মরদেহ এলে বাড়ে চাপ
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের ঘটনায় একসঙ্গে একাধিক মরদেহ মর্গে এলে বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তখন মরদেহ সংরক্ষণ, ময়নাতদন্ত এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর—পুরো প্রক্রিয়াই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, জেলা হাসপাতালের মর্গকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মরদেহ সংরক্ষণ ইউনিট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ব্যাকআপ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি।
শুধু অবকাঠামো নয়, দরকার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা
মরদেহ সংরক্ষণের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত কার্যক্রম দ্রুত ও সুশৃঙ্খল করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহ গ্রহণ, সংরক্ষণ, ময়নাতদন্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বজনদের জন্য আলাদা অপেক্ষাকক্ষ এবং তথ্য জানার একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। এতে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের অযথা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছোটাছুটি করতে হবে না।
মৃত্যুর পরও যেন অবহেলা নয়
একজন মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৃত্যুর পর তার মরদেহের যথাযথ সংরক্ষণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের একটি সরকারি হাসপাতালে এ বিষয়ে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গের বর্তমান সক্ষমতা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো কতটা যুগোপযোগী—তা সরেজমিন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি শুধু অভিযোগ বা আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ মৃত্যুর পরও একজন মানুষের মরদেহের মর্যাদা রক্ষা করা মানবিক দায়িত্ব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা হাসপাতালের মর্গে মরদেহ সংরক্ষণে সংকট মৃত্যুর পরও ভোগান্তি,

Update Time : ০৬:৫৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রিয়জনকে হারানোর শোক নিয়েই হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করতে হয় স্বজনদের। কখন ময়নাতদন্ত শেষ হবে, কখন মরদেহ বুঝে পাবেন—এই উৎকণ্ঠার সঙ্গে যোগ হয় মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা। গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তিতে পড়ছেন মরদেহের স্বজনরা।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দুর্ঘটনা, হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা, পানিতে ডুবে মৃত্যু কিংবা অন্যান্য অপমৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আনা হয় গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মর্গটির ওপর নির্ভরশীল জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সংরক্ষণ সুবিধা, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা কতটা পর্যাপ্ত—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, কোনো কোনো ঘটনায় ময়নাতদন্ত শেষ হতে সময় লাগলে তাদের দীর্ঘক্ষণ হাসপাতাল চত্বরে অপেক্ষা করতে হয়। দূরের উপজেলা থেকে আসা পরিবারের সদস্যদের জন্য এই অপেক্ষা আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। প্রিয়জন হারানোর শোকের মধ্যে মরদেহ গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও তাদের নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
এক স্বজন বলেন, “আপন মানুষকে হারানোর কষ্ট তো আছেই। তার ওপর কখন মরদেহ পাব, কোথায় রাখা হচ্ছে—এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। মর্গে ভালো ব্যবস্থা থাকলে অন্তত এই ভোগান্তিটা কমত।”
একসঙ্গে মরদেহ এলে বাড়ে চাপ
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের ঘটনায় একসঙ্গে একাধিক মরদেহ মর্গে এলে বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তখন মরদেহ সংরক্ষণ, ময়নাতদন্ত এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর—পুরো প্রক্রিয়াই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, জেলা হাসপাতালের মর্গকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মরদেহ সংরক্ষণ ইউনিট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ব্যাকআপ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি।
শুধু অবকাঠামো নয়, দরকার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা
মরদেহ সংরক্ষণের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত কার্যক্রম দ্রুত ও সুশৃঙ্খল করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহ গ্রহণ, সংরক্ষণ, ময়নাতদন্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বজনদের জন্য আলাদা অপেক্ষাকক্ষ এবং তথ্য জানার একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। এতে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের অযথা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছোটাছুটি করতে হবে না।
মৃত্যুর পরও যেন অবহেলা নয়
একজন মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৃত্যুর পর তার মরদেহের যথাযথ সংরক্ষণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের একটি সরকারি হাসপাতালে এ বিষয়ে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গের বর্তমান সক্ষমতা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো কতটা যুগোপযোগী—তা সরেজমিন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি শুধু অভিযোগ বা আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ মৃত্যুর পরও একজন মানুষের মরদেহের মর্যাদা রক্ষা করা মানবিক দায়িত্ব।