বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০০ ফিট সড়কের ৯০ ফিটই দখলে, দেখার কি কেউ নেই?

রাজধানীর ভাটারা থানার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফিট সড়ক। নাম ১০০ ফিট হলেও বাস্তবে কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচলের জায়গা অবশিষ্ট মাত্র ১০ ফুট। সড়কের দুই পাশে সারি সারি অস্থায়ী দোকান, এক পাশে অটোরিকশার স্ট্যান্ড, অন্যদিকে যত্রতত্র ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং। সব মিলিয়ে সড়কটির বড় অংশই দখলে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। অথচ দীর্ঘদিনেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের ওপর তিন থেকে চার সারিতে বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকানপাট। কোথাও পণ্য সাজিয়ে, কোথাও দোকানের সরঞ্জাম রেখে দখল করা হয়েছে সড়কের বড় অংশ। পাশাপাশি সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে অটোরিকশা। বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন পার্ক করে রাখায় চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ১০০ ফিট প্রশস্ততার এই সড়কের প্রায় ৯০ ফুটই কোনো না কোনোভাবে দখলে থাকছে। ফলে কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচলের জন্য অবশিষ্ট থাকছে মাত্র ১০ ফুট। প্রশস্ত সড়ক থাকা সত্ত্বেও সংকীর্ণ পথ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে। সামান্য চাপ বাড়লেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। বাধ্য হয়ে তাঁদের হাঁটতে হচ্ছে মূল সড়ক দিয়ে। পাশ দিয়ে চলাচল করছে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিরাজ মিয়া বলেন, ‘ফুটপাতের কারণে মানুষজন চলাফেরায় যে কষ্ট হচ্ছে, এটা তো প্রতিদিনের ভোগান্তি। সকাল নাই, সন্ধ্যা নাই, বিকাল নাই, দুপুর নাই—সব সময় যানজট লেগে থাকে শুধু ফুটপাতের কারণে আর অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ডের জন্য।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের একাংশ হকারদের দখলে, অন্য অংশে অটোরিকশার স্ট্যান্ড ও ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিং। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো, অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কটি দখলমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক জুবায়ের বলেন, ১০০ ফিট সড়ক দখল করে বিভিন্ন দোকান বসানোর বিষয়টি তাঁদের নজরদারিতে রয়েছে। পূজার নিরাপত্তা নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকায় আপাতত এ বিষয়ে কার্যক্রম নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পূজা শেষ হলে ক্রাইম ডিভিশনের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পুরো সড়ক দখলমুক্ত করা হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না, নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে পুনরায় দখল ঠেকাতে হবে। একই সঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
১০০ ফিট সড়কের প্রায় ৯০ ফুটই যদি দখলে থাকে, তাহলে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কার? আর কত দিন এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হবে পথচারী ও যাত্রীদের? স্থানীয়দের প্রশ্ন—সড়কটি দখলমুক্ত করার মতো কি কেউ নেই?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

১০০ ফিট সড়কের ৯০ ফিটই দখলে, দেখার কি কেউ নেই?

Update Time : ০৫:০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ভাটারা থানার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফিট সড়ক। নাম ১০০ ফিট হলেও বাস্তবে কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচলের জায়গা অবশিষ্ট মাত্র ১০ ফুট। সড়কের দুই পাশে সারি সারি অস্থায়ী দোকান, এক পাশে অটোরিকশার স্ট্যান্ড, অন্যদিকে যত্রতত্র ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং। সব মিলিয়ে সড়কটির বড় অংশই দখলে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। অথচ দীর্ঘদিনেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের ওপর তিন থেকে চার সারিতে বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকানপাট। কোথাও পণ্য সাজিয়ে, কোথাও দোকানের সরঞ্জাম রেখে দখল করা হয়েছে সড়কের বড় অংশ। পাশাপাশি সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে অটোরিকশা। বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন পার্ক করে রাখায় চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ১০০ ফিট প্রশস্ততার এই সড়কের প্রায় ৯০ ফুটই কোনো না কোনোভাবে দখলে থাকছে। ফলে কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচলের জন্য অবশিষ্ট থাকছে মাত্র ১০ ফুট। প্রশস্ত সড়ক থাকা সত্ত্বেও সংকীর্ণ পথ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে। সামান্য চাপ বাড়লেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। বাধ্য হয়ে তাঁদের হাঁটতে হচ্ছে মূল সড়ক দিয়ে। পাশ দিয়ে চলাচল করছে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিরাজ মিয়া বলেন, ‘ফুটপাতের কারণে মানুষজন চলাফেরায় যে কষ্ট হচ্ছে, এটা তো প্রতিদিনের ভোগান্তি। সকাল নাই, সন্ধ্যা নাই, বিকাল নাই, দুপুর নাই—সব সময় যানজট লেগে থাকে শুধু ফুটপাতের কারণে আর অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ডের জন্য।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের একাংশ হকারদের দখলে, অন্য অংশে অটোরিকশার স্ট্যান্ড ও ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিং। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো, অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কটি দখলমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক জুবায়ের বলেন, ১০০ ফিট সড়ক দখল করে বিভিন্ন দোকান বসানোর বিষয়টি তাঁদের নজরদারিতে রয়েছে। পূজার নিরাপত্তা নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকায় আপাতত এ বিষয়ে কার্যক্রম নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পূজা শেষ হলে ক্রাইম ডিভিশনের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পুরো সড়ক দখলমুক্ত করা হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না, নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে পুনরায় দখল ঠেকাতে হবে। একই সঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
১০০ ফিট সড়কের প্রায় ৯০ ফুটই যদি দখলে থাকে, তাহলে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কার? আর কত দিন এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হবে পথচারী ও যাত্রীদের? স্থানীয়দের প্রশ্ন—সড়কটি দখলমুক্ত করার মতো কি কেউ নেই?