বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিমেন্টশিল্পে প্রযুক্তি বিনিময়ে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেঘনা ও বিআইসিএলের সমঝোতা

দেশের সিমেন্টশিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে চীনের গুয়াংসি ইউফেং কোং লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি ও বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড (বিআইসিএল)।
বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা সুপারগলফে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএলের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। অন্যদিকে গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন।
সমঝোতা অনুযায়ী, দুই বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি আধুনিক সিমেন্ট উৎপাদনপ্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
‘বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না: বিল্ডিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ অংশীদারত্ব বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি দেশের সিমেন্টশিল্পের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শাহেদ জাহিদ বলেন, সিমেন্ট কারখানার কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুয়াংসি ইউফেংয়ের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, নৌপথে পণ্য পরিবহনের জটিলতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করার পাশাপাশি নিজেদের উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গুয়াংসি ইউফেংয়ের চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন বলেন, চীনের সিমেন্টশিল্পে সিনোমা শিয়ামেন অন্যতম পুরোনো ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। সিমেন্ট উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা ও উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পের উন্নয়ন ও রূপান্তরে অবদান রাখতে চান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি, বিআইসিএল ও সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান প্রকৌশলী দেং ইউলিয়ানসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিনো বিডি এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিন ইয়ানশিয়ং, জেনারেল ম্যানেজার ইয়ে ঝেনহং এবং ইয়ুনহাই মাইনিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়ে গুয়াংহাই উপস্থিত ছিলেন।
মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএল জানিয়েছে, এ সমঝোতার মাধ্যমে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে সিমেন্ট উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পকারখানার কার্যকারিতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগ ও উদ্যোগ সম্প্রসারণের পথ সুগম হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

সিমেন্টশিল্পে প্রযুক্তি বিনিময়ে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেঘনা ও বিআইসিএলের সমঝোতা

Update Time : ০৭:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশের সিমেন্টশিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে চীনের গুয়াংসি ইউফেং কোং লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি ও বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড (বিআইসিএল)।
বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা সুপারগলফে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএলের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। অন্যদিকে গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন।
সমঝোতা অনুযায়ী, দুই বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি আধুনিক সিমেন্ট উৎপাদনপ্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
‘বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না: বিল্ডিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ অংশীদারত্ব বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি দেশের সিমেন্টশিল্পের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শাহেদ জাহিদ বলেন, সিমেন্ট কারখানার কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুয়াংসি ইউফেংয়ের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, নৌপথে পণ্য পরিবহনের জটিলতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করার পাশাপাশি নিজেদের উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গুয়াংসি ইউফেংয়ের চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন বলেন, চীনের সিমেন্টশিল্পে সিনোমা শিয়ামেন অন্যতম পুরোনো ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। সিমেন্ট উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা ও উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পের উন্নয়ন ও রূপান্তরে অবদান রাখতে চান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি, বিআইসিএল ও সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান প্রকৌশলী দেং ইউলিয়ানসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিনো বিডি এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিন ইয়ানশিয়ং, জেনারেল ম্যানেজার ইয়ে ঝেনহং এবং ইয়ুনহাই মাইনিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়ে গুয়াংহাই উপস্থিত ছিলেন।
মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএল জানিয়েছে, এ সমঝোতার মাধ্যমে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে সিমেন্ট উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পকারখানার কার্যকারিতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগ ও উদ্যোগ সম্প্রসারণের পথ সুগম হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।