বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় বিয়ের আগের দিন বরের মৃত্যু, গায়ে হলুদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে

রাত পোহালেই বিয়ে। বাড়িজুড়ে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা আর গায়ে হলুদের উৎসব। স্বজনদের পদচারণায় মুখরিত ছিল বাড়ি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নতুন জীবনের সূচনা হওয়ার কথা ছিল আরিফ শাহরিয়ার সৌমিকের (২১)। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিণতিতে বিয়ের আগের রাতেই নিভে গেল তাঁর জীবনপ্রদীপ। আনন্দে ভরা বাড়িটি মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের বাড়িতে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌমিককে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সৌমিক গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাঁকে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা অভিযোগ করেন, চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এমনকি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেও প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় অপেক্ষা করতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
মেধাবী শিক্ষার্থী সৌমিক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। তাঁকে ঘিরে পরিবারের ছিল অনেক স্বপ্ন, আর বিয়েকে কেন্দ্র করে চলছিল নতুন জীবনের নানা আয়োজন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর আয়োজনের পরিণতি হলো হৃদয়বিদারক শোক।
এদিকে, শোকাহত পরিবারের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা। মরদেহ সংরক্ষণে সহযোগিতার জন্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে একটি কফিন পাঠানো হয়। প্রিয়জনকে হারানোর এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে সংস্থাটি তাদের মানবিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে।
যে বাড়িতে নতুন জীবনের সূচনাকে ঘিরে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, সেই বাড়িতেই এখন স্বজন হারানোর কান্না। বিয়ের সাজসজ্জা আর আলোকসজ্জার আড়ালে চাপা পড়েছে এক পরিবারের অসীম বেদনা।
তবে সৌমিকের মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু কি না, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের বক্তব্য বা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় বিয়ের আগের দিন বরের মৃত্যু, গায়ে হলুদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে

Update Time : ০৭:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

রাত পোহালেই বিয়ে। বাড়িজুড়ে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা আর গায়ে হলুদের উৎসব। স্বজনদের পদচারণায় মুখরিত ছিল বাড়ি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নতুন জীবনের সূচনা হওয়ার কথা ছিল আরিফ শাহরিয়ার সৌমিকের (২১)। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিণতিতে বিয়ের আগের রাতেই নিভে গেল তাঁর জীবনপ্রদীপ। আনন্দে ভরা বাড়িটি মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের বাড়িতে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌমিককে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সৌমিক গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাঁকে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা অভিযোগ করেন, চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এমনকি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেও প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় অপেক্ষা করতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
মেধাবী শিক্ষার্থী সৌমিক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। তাঁকে ঘিরে পরিবারের ছিল অনেক স্বপ্ন, আর বিয়েকে কেন্দ্র করে চলছিল নতুন জীবনের নানা আয়োজন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর আয়োজনের পরিণতি হলো হৃদয়বিদারক শোক।
এদিকে, শোকাহত পরিবারের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা। মরদেহ সংরক্ষণে সহযোগিতার জন্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে একটি কফিন পাঠানো হয়। প্রিয়জনকে হারানোর এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে সংস্থাটি তাদের মানবিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে।
যে বাড়িতে নতুন জীবনের সূচনাকে ঘিরে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, সেই বাড়িতেই এখন স্বজন হারানোর কান্না। বিয়ের সাজসজ্জা আর আলোকসজ্জার আড়ালে চাপা পড়েছে এক পরিবারের অসীম বেদনা।
তবে সৌমিকের মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু কি না, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের বক্তব্য বা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।