বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে সম্পত্তির বিরোধে বাবার দাফনে মেয়ের আপত্তি, ১৬ ঘণ্টা পর সমাধান

বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা বেগম। অবশেষে প্রায় ১৬ ঘণ্টার টানাপোড়েনের পর দেড় লাখ টাকার ব্যাংক চেক দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধের সাময়িক সমাধান হয়। এরপর বাবার জানাজা ও দাফনে সম্মতি দেন হালিমা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাদ মাগরিব জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে। মৃত নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৮০) ওই গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। সে অনুযায়ী মুসল্লিরাও জানাজায় অংশ নিতে আসেন। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ছেলে আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী ব্যাপারী ও মেয়ে হালিমা বেগমের বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ে দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
হালিমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকাকালে প্রায় দেড় বছর আগে ভাই ইদ্রিস আলী বাবার সমুদয় সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন। বিষয়টি জানতে পেরে আপত্তি জানালে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও তিনি নিজের অংশ বুঝে পাননি। তাঁর দাবি, বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ। সোমবার বিকেলে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই ও সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান বলেন, “গতকাল থেকেই আমি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি, কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাধান হবে।”
ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করছেন তাঁরা।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইদ্রিস আলী দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বোনকে সম্পত্তির ভাগ দেওয়ার বিষয়ে ঘোরাচ্ছিলেন। সম্প্রতি বোনের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
পরে হালিমা বেগমকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব সামনে আসে। প্রথমে ওই প্রস্তাবে সম্মত না হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাংক চেক দেওয়ার পর তিনি বাবার দাফনে সম্মতি দেন। তবে এই সমঝোতার মাধ্যমে সম্পত্তির বিরোধ পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী ব্যাপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
বাবার মরদেহের দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই বিরোধে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত জানাজা ও দাফনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন স্থানীয়রা। তবে সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

সাদুল্লাপুরে সম্পত্তির বিরোধে বাবার দাফনে মেয়ের আপত্তি, ১৬ ঘণ্টা পর সমাধান

Update Time : ০১:১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা বেগম। অবশেষে প্রায় ১৬ ঘণ্টার টানাপোড়েনের পর দেড় লাখ টাকার ব্যাংক চেক দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধের সাময়িক সমাধান হয়। এরপর বাবার জানাজা ও দাফনে সম্মতি দেন হালিমা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাদ মাগরিব জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে। মৃত নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৮০) ওই গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। সে অনুযায়ী মুসল্লিরাও জানাজায় অংশ নিতে আসেন। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ছেলে আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী ব্যাপারী ও মেয়ে হালিমা বেগমের বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ে দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
হালিমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকাকালে প্রায় দেড় বছর আগে ভাই ইদ্রিস আলী বাবার সমুদয় সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন। বিষয়টি জানতে পেরে আপত্তি জানালে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও তিনি নিজের অংশ বুঝে পাননি। তাঁর দাবি, বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ। সোমবার বিকেলে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই ও সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান বলেন, “গতকাল থেকেই আমি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি, কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাধান হবে।”
ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করছেন তাঁরা।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইদ্রিস আলী দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বোনকে সম্পত্তির ভাগ দেওয়ার বিষয়ে ঘোরাচ্ছিলেন। সম্প্রতি বোনের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
পরে হালিমা বেগমকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব সামনে আসে। প্রথমে ওই প্রস্তাবে সম্মত না হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাংক চেক দেওয়ার পর তিনি বাবার দাফনে সম্মতি দেন। তবে এই সমঝোতার মাধ্যমে সম্পত্তির বিরোধ পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী ব্যাপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
বাবার মরদেহের দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই বিরোধে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত জানাজা ও দাফনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন স্থানীয়রা। তবে সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।