আধুনিক রাডার ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) প্রযুক্তি চালুর পর বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এটিসি টাওয়ার ও পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থা চালুর ফলে দেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী উড়োজাহাজের চলাচল আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এর সুফল মিলছে রাজস্ব আদায়েও।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওভারফ্লাই ফি থেকে সরকারের আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বছরের দ্বিতীয় ছয় মাসে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে আয় হয়েছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা। এর আগের ছয় মাসে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছিল ৩৩৮ কোটি টাকার বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় আসার ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজের অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে এখন আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আকাশসীমা ব্যবহারের বিপরীতে নির্ধারিত ফি আদায়ের প্রক্রিয়াও কার্যকর হয়েছে।
দীর্ঘদিন দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় সীমিত সক্ষমতার রাডার ও অপেক্ষাকৃত পুরোনো প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা। এতে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও ফি আদায়ে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল।
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) এবং কমিউনিকেশন, নেভিগেশন অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স (সিএনএস) ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)। প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ফ্রান্সের এভিয়েশন ও ডিফেন্স প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেলসের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়। সিএএবির নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত অবকাঠামোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে।
নতুন রাডার ও সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমায় চলাচলকারী উড়োজাহাজের অবস্থান, গতিপথ ও চলাচল সম্পর্কে আগের তুলনায় আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে আকাশপথের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ওভারফ্লাই ফি আদায়ের সক্ষমতাও বাড়ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের আকাশসীমা। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের সংযোগস্থলে থাকায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক রাডার ও এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে ভবিষ্যতে আকাশসীমা ব্যবহারের ফি থেকে আরও বেশি রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের এভিয়েশন খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আকাশসীমা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নতুন রাডারে আকাশসীমায় নজরদারি বাড়ল, ছয় মাসে রাজস্ব ৪১৬ কোটি
-
স্টাফ রিপোর্টার: - Update Time : ০৬:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- ২৮ Time View
Tag :
Popular Post























