দৈনিক কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধি আসাদ সবুজকে গভীর রাতে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর দুই হাতে হাতকড়া পরানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)।
বৃহস্পতিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা নেই। তবে গ্রেপ্তারের পর ডোপ টেস্ট করানো এবং হাতকড়া ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিএমএসএফের দাবি, ডোপ টেস্টে আসাদ সবুজের মাদকাসক্তির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর ডোপ টেস্ট এবং বিশেষ করে পেছনে হাতকড়া ব্যবহারের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাতকড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির আচরণ বিবেচনা করা জরুরি। কথিত একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় বা জনসমক্ষে অপমানিত করার উদ্দেশ্যে হাতকড়া ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
বিএমএসএফের ভাষ্য, ওই মামলায় আরও ১০ থেকে ১২ জন বিভিন্ন পেশার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই জামিনে রয়েছেন।
সংগঠনটি জানায়, বাংলাদেশ পুলিশের রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB)-এর ৩৩০ প্রবিধানে হাতকড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও সংযমের নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনাতেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাতকড়া ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে।
বিএমএসএফ মনে করে, কোনো সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরানোর আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার আইনগত ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করা উচিত। আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে তাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে এবং পুলিশের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল কি না—তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিএমএসএফ। পাশাপাশি হাতকড়া ব্যবহারের আইনগত যৌক্তিকতা যাচাই, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং কোনো ধরনের অমানবিক বা অপমানজনক আচরণ হয়ে থাকলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকের পেশাগত স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মানবাধিকার সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সাংবাদিকসহ প্রত্যেক নাগরিকের মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকের মর্যাদা রক্ষায় পুলিশের কাছে আইনসম্মত, দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বিএমএসএফ।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধির হাতে হাতকড়া, বিএমএসএফের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
-
বিশেষ প্রতিনিধি: - Update Time : ১০:৫২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- ২৭ Time View
Tag :
Popular Post























