বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেগমগঞ্জে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে বাঁশ, এলজিইডির দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার এবং রেলিংয়ে নিম্নমানের রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নির্মাণকাজে অনিয়মের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তাঁরা বিধি অনুযায়ী ভরণপোষণ ভাতা পাবেন।
এলজিইডি সূত্র জানায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ করছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সেতুটি যৌথভাবে পরিদর্শন করেন। এ সময় ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
পরিদর্শনে দেখা যায়, ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই নিম্নমানের এবং অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। একই সঙ্গে সেতুর রেলিং নির্মাণে ব্যবহৃত রডের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এরপর নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই প্রকৌশলীর কাছে অনিয়মের বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্তে এলজিইডির নোয়াখালী জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলজিইডি জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

বেগমগঞ্জে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে বাঁশ, এলজিইডির দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

Update Time : ০৪:২৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার এবং রেলিংয়ে নিম্নমানের রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নির্মাণকাজে অনিয়মের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তাঁরা বিধি অনুযায়ী ভরণপোষণ ভাতা পাবেন।
এলজিইডি সূত্র জানায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ করছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সেতুটি যৌথভাবে পরিদর্শন করেন। এ সময় ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
পরিদর্শনে দেখা যায়, ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই নিম্নমানের এবং অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। একই সঙ্গে সেতুর রেলিং নির্মাণে ব্যবহৃত রডের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এরপর নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই প্রকৌশলীর কাছে অনিয়মের বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্তে এলজিইডির নোয়াখালী জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলজিইডি জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।