বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুশ্চিন্তা নিয়ে এসে স্বস্তির হাসিতে ফিরছেন মানুষ, পাশে গাজীপুরের ডিসি

অভাব-অভিযোগ, চিকিৎসার সংকট, আর্থিক অনটন কিংবা পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার কথা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসছেন সাধারণ মানুষ। তাদের কথা সরাসরি শুনে সম্ভব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তা নিয়ে আসা অনেক মানুষই ফিরছেন স্বস্তি নিয়ে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতি বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ গণশুনানি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, দুস্থ ও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মানুষ সেখানে সরাসরি জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার কাছে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরছেন।
গণশুনানিতে ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের কথা শুনছেন জেলা প্রশাসক। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবারের গণশুনানিতে চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সংকট, পারিবারিক বিরোধ, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা, সরকারি ভাতা, কর্মসংস্থান, বকেয়া বেতন ও সড়ক সংস্কারসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন নাগরিকরা।
পঙ্গু বাবার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাইতে গণশুনানিতে আসেন পোশাক শ্রমিক সানিয়া আক্তার। তার সমস্যার কথা শুনে জেলা প্রশাসক তাকে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া টঙ্গীর ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় বৃদ্ধা সামসুন্নাহারের চিকিৎসার জন্যও তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
স্বামী মারা যাওয়ার পর ভাসুর ও আত্মীয়দের কারণে গৃহহীন ও নানা সমস্যার শিকার বিধবা হালিমা আক্তারও গণশুনানিতে তার অভিযোগ তুলে ধরেন। তার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সদর সার্কেলের এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
গণশুনানিতে জমি অধিগ্রহণের বিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিভিন্ন কারখানার বকেয়া বেতন, সড়ক সংস্কারসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরছেন নাগরিকরা। কোনো কোনো এলাকায় নতুন ভূমি অফিস ও হাসপাতাল স্থাপনের দাবিও জানানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট ও ত্রাণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তার নিজের অধিকার বুঝে পাবে। প্রতিদিন এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
গণশুনানির মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে নাগরিকরা তাদের সমস্যার কথা সরাসরি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পারছেন, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিয়মিত ও কার্যকর গণশুনানি দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও জোরদার হলে সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে নাগরিকদের সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থাও আরও দৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

দুশ্চিন্তা নিয়ে এসে স্বস্তির হাসিতে ফিরছেন মানুষ, পাশে গাজীপুরের ডিসি

Update Time : ০৮:০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অভাব-অভিযোগ, চিকিৎসার সংকট, আর্থিক অনটন কিংবা পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার কথা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসছেন সাধারণ মানুষ। তাদের কথা সরাসরি শুনে সম্ভব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তা নিয়ে আসা অনেক মানুষই ফিরছেন স্বস্তি নিয়ে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতি বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ গণশুনানি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, দুস্থ ও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মানুষ সেখানে সরাসরি জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার কাছে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরছেন।
গণশুনানিতে ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের কথা শুনছেন জেলা প্রশাসক। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবারের গণশুনানিতে চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সংকট, পারিবারিক বিরোধ, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা, সরকারি ভাতা, কর্মসংস্থান, বকেয়া বেতন ও সড়ক সংস্কারসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন নাগরিকরা।
পঙ্গু বাবার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাইতে গণশুনানিতে আসেন পোশাক শ্রমিক সানিয়া আক্তার। তার সমস্যার কথা শুনে জেলা প্রশাসক তাকে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া টঙ্গীর ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় বৃদ্ধা সামসুন্নাহারের চিকিৎসার জন্যও তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
স্বামী মারা যাওয়ার পর ভাসুর ও আত্মীয়দের কারণে গৃহহীন ও নানা সমস্যার শিকার বিধবা হালিমা আক্তারও গণশুনানিতে তার অভিযোগ তুলে ধরেন। তার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সদর সার্কেলের এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
গণশুনানিতে জমি অধিগ্রহণের বিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিভিন্ন কারখানার বকেয়া বেতন, সড়ক সংস্কারসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরছেন নাগরিকরা। কোনো কোনো এলাকায় নতুন ভূমি অফিস ও হাসপাতাল স্থাপনের দাবিও জানানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট ও ত্রাণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তার নিজের অধিকার বুঝে পাবে। প্রতিদিন এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
গণশুনানির মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে নাগরিকরা তাদের সমস্যার কথা সরাসরি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পারছেন, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিয়মিত ও কার্যকর গণশুনানি দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও জোরদার হলে সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে নাগরিকদের সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থাও আরও দৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।