অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ টিম গঠন করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের নাম রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়ম, টেন্ডার ও কেনাকাটায় দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, মানিলন্ডারিং, বিদেশে অর্থপাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো বিষয়।
এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সরকারি কেনাকাটা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। কোন কোন সিদ্ধান্তে অনিয়ম হয়েছে, সরকারি অর্থের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে খতিয়ে দেখবে দুদক।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, বিটকয়েন লেনদেন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকা এবং তা প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানের পরই এসব দাবির সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়া মানেই তিনি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা, অর্থের উৎস ও গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করাই দুদকের কাজ।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কোনো কর্মকর্তা বা উপদেষ্টার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য অভিযোগ থাকলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সেগুলোর স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং প্রমাণ না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্তি দেওয়াই হবে জবাবদিহির সঠিক পথ।
এখন মূল প্রশ্ন—দুদকের এই অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর কতটা সত্যতা পাওয়া যায় এবং সরকারি সিদ্ধান্ত, নিয়োগ-বদলি ও অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের প্রমাণ মেলে কি না। উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হওয়ার পর।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান, সামনে আসছে আরও অভিযোগ
-
বিশেষ প্রতিনিধি: - Update Time : ০২:২১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ৪০ Time View
Tag :
Popular Post























