বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রণোদনা ঋণে জটিলতা, দ্রুত নিষ্পত্তি চান ব্যবসায়ীরা

বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনতে ঘোষিত প্রণোদনা ঋণ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। অতিরিক্ত কাগজপত্র, ব্যাংকের দীর্ঘসূত্রতা এবং ঋণ অনুমোদনে দেরির অভিযোগ তুলে শর্ত সহজ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে খেলাপিমুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ২ শতাংশ নগদ অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠকে এসব দাবি উঠে আসে। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ নিতে গিয়ে ব্যাংক পর্যায়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। আবার আবেদন জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত পেতেও দীর্ঘ সময় লাগছে।
বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিসিএ, বিইএফ, বিজেএ ও এমসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, ঋণ অনুমোদনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকে পর্ষদ সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। এ কারণে প্রণোদনা ঋণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পরিচালনা পর্ষদ সভা আয়োজনের দাবি জানান তাঁরা।
এ ছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া বন্ধ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের জটিলতার কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা প্রণোদনা কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারছেন না।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ থাকলেও বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে অনেকেই আবেদন করতে পারছেন না। কোনো কোনো ব্যাংক আবেদন গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে এবং নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা পরিপত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
গত মে মাসে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার কথা। তবে ঘোষণার চার মাস পরও ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল থেকে মাত্র ৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এতে প্রণোদনা ঋণ বিতরণের গতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিরোনামের জন্য আমার পছন্দ: “প্রণোদনা ঋণে জটিলতা, দ্রুত নিষ্পত্তি চান ব্যবসায়ীরা” — এটি তথ্যভিত্তিক এবং পুরো প্রতিবেদনের মূল বক্তব্যটি ধরে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

প্রণোদনা ঋণে জটিলতা, দ্রুত নিষ্পত্তি চান ব্যবসায়ীরা

Update Time : ১০:২৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনতে ঘোষিত প্রণোদনা ঋণ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। অতিরিক্ত কাগজপত্র, ব্যাংকের দীর্ঘসূত্রতা এবং ঋণ অনুমোদনে দেরির অভিযোগ তুলে শর্ত সহজ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে খেলাপিমুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ২ শতাংশ নগদ অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠকে এসব দাবি উঠে আসে। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ নিতে গিয়ে ব্যাংক পর্যায়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। আবার আবেদন জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত পেতেও দীর্ঘ সময় লাগছে।
বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিসিএ, বিইএফ, বিজেএ ও এমসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, ঋণ অনুমোদনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকে পর্ষদ সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। এ কারণে প্রণোদনা ঋণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পরিচালনা পর্ষদ সভা আয়োজনের দাবি জানান তাঁরা।
এ ছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া বন্ধ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের জটিলতার কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা প্রণোদনা কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারছেন না।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ থাকলেও বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে অনেকেই আবেদন করতে পারছেন না। কোনো কোনো ব্যাংক আবেদন গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে এবং নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা পরিপত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
গত মে মাসে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার কথা। তবে ঘোষণার চার মাস পরও ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল থেকে মাত্র ৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এতে প্রণোদনা ঋণ বিতরণের গতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিরোনামের জন্য আমার পছন্দ: “প্রণোদনা ঋণে জটিলতা, দ্রুত নিষ্পত্তি চান ব্যবসায়ীরা” — এটি তথ্যভিত্তিক এবং পুরো প্রতিবেদনের মূল বক্তব্যটি ধরে।