অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবস্থাকে পরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় আনতে বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
তিনি বলেন, নগর উন্নয়নে কোনো ধরনের খণ্ডিত উদ্যোগ নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে এগোতে হবে। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা অনেকটা একটি লক্ষ্যবস্তুতে চারটি তীর ছোড়ার মতো। কোনো একটি লক্ষ্যভেদ করতে পারে, কিন্তু পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য এভাবে এগোনোর সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, ভবন নির্মাণে স্থাপত্য, কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ডিজাইনারদের মাধ্যমে প্রত্যয়ন করার ব্যবস্থা করা হবে।
জাকারিয়া তাহের জানান, আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইউডিডি) প্রথমবারের মতো ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কাজ করা হবে। শুরুতে মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত প্রতিটি এলাকার জন্য বাস্তবভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাবনা বিবেচনায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য স্থাপনার জন্য জোনিং করা হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউডিডিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
নগর পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান জনসংখ্যা, বসতি, আবাসন ও নগরায়ণের প্রকৃত চিত্র জানতে নতুন করে উপযুক্ত শুমারি প্রয়োজন। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত ভবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে অনুমোদিত পরিকল্পনা না মেনে নির্মিত ভবন চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ছাড়া অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত ভবন নিয়ে নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।
নগর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে নতুন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত সাত মাসে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশালে ছয়টি নতুন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বগুড়াসহ অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার পরিবেশ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের বলেন, এসব এলাকায় বহু ভবনে প্রয়োজনীয় সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নেই। অনেক বড় আবাসন প্রকল্পেও বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করা হয়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ব্যাপক আবাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজ সুবিধা প্রয়োজন। উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত এগিয়ে এলে সরকার সহযোগিতা করবে।
বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা ও নির্ধারিত শর্ত মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধে বেসরকারি আবাসন খাতকে আরও কার্যকরভাবে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকার বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাকারিয়া তাহের বলেন, অতিরিক্ত জনঘনত্বসহ নানা কারণে রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য পরিবেশ, আবাসন, যোগাযোগ ও নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ রক্ষা ও জনবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নগর উন্নয়নে ‘চার তীর’ নয়, সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান চায় সরকার
-
বিশেষ প্রতিনিধি: - Update Time : ০৮:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- ২৩ Time View
Tag :
Popular Post























