বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে

দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ততই বাড়ছে ব্যস্ততা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন প্রসাদ জানান, এ বছর জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৬৩০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ১০৫টি, সুন্দরগঞ্জে ১৪০টি, গোবিন্দগঞ্জে ১৩৫টি, সাদুল্লাপুরে ১১৩টি, পলাশবাড়ীতে ৫৯টি, সাঘাটায় ৬৪টি এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ১৪টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হবে।
জেলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কারিগররা শেষ মুহূর্তের রং ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে প্রতিমাগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা ধরনের কারুকাজ ও রঙের কাজ।
পূজামণ্ডপগুলোতে রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা, কীর্তন, আরতি ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে জেলার সব পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্যসহ গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সড়কে টহল দেবে বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ সুপার বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজার সময় প্রতিটি উপজেলায় একটি করে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হবে। এসব নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে

Update Time : ০২:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ততই বাড়ছে ব্যস্ততা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন প্রসাদ জানান, এ বছর জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৬৩০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ১০৫টি, সুন্দরগঞ্জে ১৪০টি, গোবিন্দগঞ্জে ১৩৫টি, সাদুল্লাপুরে ১১৩টি, পলাশবাড়ীতে ৫৯টি, সাঘাটায় ৬৪টি এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ১৪টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হবে।
জেলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কারিগররা শেষ মুহূর্তের রং ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে প্রতিমাগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা ধরনের কারুকাজ ও রঙের কাজ।
পূজামণ্ডপগুলোতে রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা, কীর্তন, আরতি ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে জেলার সব পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্যসহ গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সড়কে টহল দেবে বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ সুপার বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজার সময় প্রতিটি উপজেলায় একটি করে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হবে। এসব নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।