বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ কবরস্থানে ২৫৩ একর, শেষ ঠিকানার সংকটে রাজধানী

মানুষের জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বাস্তবতাগুলোর একটি হলো প্রিয়জনের শেষ বিদায়। জন্মের পর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে মানুষের জন্য যেমন প্রয়োজন হয় একটি ঠিকানা, মৃত্যুর পরও প্রয়োজন হয় শেষ আশ্রয়ের একটি জায়গা। অথচ জনসংখ্যা ও নগরায়ণের চাপে সেই শেষ ঠিকানাটিও ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে রাজধানী ঢাকায়।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সরকারি ১৩টি কবরস্থানে মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২৫৩ একর। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় প্রায় ১৯২ একর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় প্রায় ৬১ একর জমি রয়েছে। এসব কবরস্থানে বিপুলসংখ্যক মরদেহ দাফন করা হলেও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার তুলনায় কবরস্থানের জায়গা দিন দিন অপ্রতুল হয়ে পড়ছে।
সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব কবরস্থানে প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮টি কবরের ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে নিয়মিত নতুন দাফনের পাশাপাশি পুরোনো কবর সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি কবরের কারণে জায়গার ওপর চাপ বাড়ছে।
পুরোনো কবরের ওপরই নতুন দাফন
ঢাকার অনেক কবরস্থানে নির্দিষ্ট সময় পর পুরোনো কবরের জায়গা পুনরায় ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি কবরের নির্ধারিত সময় পার হলে সেখানে নতুন করে মরদেহ দাফন করা হয়। এতে সীমিত জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হলেও রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামাল দিতে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে কিছু কবরস্থানে দীর্ঘ সময়ের জন্য কবর সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এর জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। রাজধানীর বিভিন্ন কবরস্থানে কবর সংরক্ষণের মেয়াদ ও ফি এক নয়। বনানী, উত্তরা ও মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণের জন্য তুলনামূলক বেশি অর্থ গুনতে হয়।
এতে আর্থিকভাবে সক্ষম পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণের সুযোগ পেলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
কবরের জায়গাতেও বাড়ছে আর্থিক চাপ
কবর সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কোনো কোনো পরিবার অভিযোগ করেছে, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে বিভিন্নভাবে অতিরিক্ত অর্থের চাপ তৈরি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালে সূত্রাপুর এলাকার একটি পরিবারও কবর সংরক্ষণ সংক্রান্ত অর্থের বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেছিল বলে জানা যায়। পরিবারটির অভিযোগ ছিল, স্বজনের কবর সংরক্ষণ করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
কবরস্থানে কর্মরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জায়গার সংকট ও মানুষের চাহিদার কারণে অনেক পরিবার স্বজনের কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চান। কিন্তু সীমিত জায়গার কারণে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ বাড়তে থাকলে নতুন মরদেহ দাফনের জন্য জায়গা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণ কি সংকট বাড়াচ্ছে?
সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণের জন্য বেশি ফি নির্ধারণের একটি উদ্দেশ্য হলো সীমিত জায়গায় দীর্ঘদিন একটি কবর সংরক্ষণকে নিরুৎসাহিত করা। ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানিয়েছেন, জায়গার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কবর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—রাজধানীতে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ও জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় নতুন কবরস্থানের পরিকল্পনা কতটা এগোচ্ছে?
১৩ কবরস্থানে ২৫৩ একর—আগামী দিনের চাহিদা কতটা?
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১৩টি সরকারি কবরস্থান মিলিয়ে প্রায় ২৫৩ একর জমি থাকলেও নগরবাসীর চাহিদার তুলনায় এই জায়গা দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন কবরস্থান নির্ধারণ, বিদ্যমান কবরস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং কবর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
একই সঙ্গে কবরস্থানের জমি ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত ফি, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ এবং পুনর্ব্যবহারের নিয়ম সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন অনিয়মের সুযোগ কমবে, অন্যদিকে স্বজন হারানো পরিবারগুলোও শেষ বিদায়ের সময়ে অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত হয়রানি থেকে কিছুটা মুক্তি পাবে।
প্রয়োজন মানবিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
একটি আধুনিক ও জনবহুল শহরে হাসপাতাল, আবাসন, সড়ক কিংবা বিনোদনকেন্দ্রের পাশাপাশি কবরস্থানও নগর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করাও নগর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের অংশ।
রাজধানীর কবরস্থানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু জায়গার সংকট নয়; এটি ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও মানবিকতারও একটি বড় প্রশ্ন।
নতুন কবরস্থান স্থাপন, বিদ্যমান কবরস্থানের সর্বোচ্চ ব্যবহার, পুরোনো কবরের তথ্য ডিজিটাল সংরক্ষণ, ফি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের অভিযোগে কার্যকর নজরদারি—এসব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি।
কারণ, মানুষের জীবনের শেষ ঠিকানাটুকুও যদি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু নগর ব্যবস্থাপনার সংকট নয়—এটি মানবিকতারও এক গভীর সংকেত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

১৩ কবরস্থানে ২৫৩ একর, শেষ ঠিকানার সংকটে রাজধানী

Update Time : ১০:৩১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষের জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বাস্তবতাগুলোর একটি হলো প্রিয়জনের শেষ বিদায়। জন্মের পর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে মানুষের জন্য যেমন প্রয়োজন হয় একটি ঠিকানা, মৃত্যুর পরও প্রয়োজন হয় শেষ আশ্রয়ের একটি জায়গা। অথচ জনসংখ্যা ও নগরায়ণের চাপে সেই শেষ ঠিকানাটিও ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে রাজধানী ঢাকায়।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সরকারি ১৩টি কবরস্থানে মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২৫৩ একর। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় প্রায় ১৯২ একর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় প্রায় ৬১ একর জমি রয়েছে। এসব কবরস্থানে বিপুলসংখ্যক মরদেহ দাফন করা হলেও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার তুলনায় কবরস্থানের জায়গা দিন দিন অপ্রতুল হয়ে পড়ছে।
সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব কবরস্থানে প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮টি কবরের ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে নিয়মিত নতুন দাফনের পাশাপাশি পুরোনো কবর সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি কবরের কারণে জায়গার ওপর চাপ বাড়ছে।
পুরোনো কবরের ওপরই নতুন দাফন
ঢাকার অনেক কবরস্থানে নির্দিষ্ট সময় পর পুরোনো কবরের জায়গা পুনরায় ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি কবরের নির্ধারিত সময় পার হলে সেখানে নতুন করে মরদেহ দাফন করা হয়। এতে সীমিত জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হলেও রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামাল দিতে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে কিছু কবরস্থানে দীর্ঘ সময়ের জন্য কবর সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এর জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। রাজধানীর বিভিন্ন কবরস্থানে কবর সংরক্ষণের মেয়াদ ও ফি এক নয়। বনানী, উত্তরা ও মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণের জন্য তুলনামূলক বেশি অর্থ গুনতে হয়।
এতে আর্থিকভাবে সক্ষম পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণের সুযোগ পেলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
কবরের জায়গাতেও বাড়ছে আর্থিক চাপ
কবর সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কোনো কোনো পরিবার অভিযোগ করেছে, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে বিভিন্নভাবে অতিরিক্ত অর্থের চাপ তৈরি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালে সূত্রাপুর এলাকার একটি পরিবারও কবর সংরক্ষণ সংক্রান্ত অর্থের বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেছিল বলে জানা যায়। পরিবারটির অভিযোগ ছিল, স্বজনের কবর সংরক্ষণ করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
কবরস্থানে কর্মরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জায়গার সংকট ও মানুষের চাহিদার কারণে অনেক পরিবার স্বজনের কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চান। কিন্তু সীমিত জায়গার কারণে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ বাড়তে থাকলে নতুন মরদেহ দাফনের জন্য জায়গা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণ কি সংকট বাড়াচ্ছে?
সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণের জন্য বেশি ফি নির্ধারণের একটি উদ্দেশ্য হলো সীমিত জায়গায় দীর্ঘদিন একটি কবর সংরক্ষণকে নিরুৎসাহিত করা। ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানিয়েছেন, জায়গার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কবর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—রাজধানীতে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ও জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় নতুন কবরস্থানের পরিকল্পনা কতটা এগোচ্ছে?
১৩ কবরস্থানে ২৫৩ একর—আগামী দিনের চাহিদা কতটা?
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১৩টি সরকারি কবরস্থান মিলিয়ে প্রায় ২৫৩ একর জমি থাকলেও নগরবাসীর চাহিদার তুলনায় এই জায়গা দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন কবরস্থান নির্ধারণ, বিদ্যমান কবরস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং কবর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
একই সঙ্গে কবরস্থানের জমি ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত ফি, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ এবং পুনর্ব্যবহারের নিয়ম সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন অনিয়মের সুযোগ কমবে, অন্যদিকে স্বজন হারানো পরিবারগুলোও শেষ বিদায়ের সময়ে অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত হয়রানি থেকে কিছুটা মুক্তি পাবে।
প্রয়োজন মানবিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
একটি আধুনিক ও জনবহুল শহরে হাসপাতাল, আবাসন, সড়ক কিংবা বিনোদনকেন্দ্রের পাশাপাশি কবরস্থানও নগর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করাও নগর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের অংশ।
রাজধানীর কবরস্থানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু জায়গার সংকট নয়; এটি ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও মানবিকতারও একটি বড় প্রশ্ন।
নতুন কবরস্থান স্থাপন, বিদ্যমান কবরস্থানের সর্বোচ্চ ব্যবহার, পুরোনো কবরের তথ্য ডিজিটাল সংরক্ষণ, ফি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের অভিযোগে কার্যকর নজরদারি—এসব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি।
কারণ, মানুষের জীবনের শেষ ঠিকানাটুকুও যদি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু নগর ব্যবস্থাপনার সংকট নয়—এটি মানবিকতারও এক গভীর সংকেত।