বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাশবাড়ীতে ১১ দলের লংমার্চের পথসভায় নেতাকর্মীদের ঢল

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জোটের নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পলাশবাড়ী চৌমাথা এলাকায় জড়ো হন। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে থেকে ব্র্যাক মোড় পর্যন্ত সড়কে ব্যাপক জনসমাগমের সৃষ্টি হয়। এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। ঢাকা থেকে রংপুরের পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া হয়ে সর্বশেষ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। পাশাপাশি সংকীর্ণ দলীয়করণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে।
পথসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সাবেক নেতা ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের জামায়াতের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, সাবেক ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ স্থানীয় নেতারা। বক্তারা সরকারের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান। এসব বক্তব্য বক্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। পরে সন্ধ্যায় পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলেন। লংমার্চের শেষ কর্মসূচি হিসেবে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

পলাশবাড়ীতে ১১ দলের লংমার্চের পথসভায় নেতাকর্মীদের ঢল

Update Time : ০৫:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জোটের নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পলাশবাড়ী চৌমাথা এলাকায় জড়ো হন। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে থেকে ব্র্যাক মোড় পর্যন্ত সড়কে ব্যাপক জনসমাগমের সৃষ্টি হয়। এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। ঢাকা থেকে রংপুরের পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া হয়ে সর্বশেষ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। পাশাপাশি সংকীর্ণ দলীয়করণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে।
পথসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সাবেক নেতা ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের জামায়াতের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, সাবেক ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ স্থানীয় নেতারা। বক্তারা সরকারের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান। এসব বক্তব্য বক্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। পরে সন্ধ্যায় পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলেন। লংমার্চের শেষ কর্মসূচি হিসেবে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।