দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসচ্ছল নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার ১০০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক নারীকে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা হিসেবে দুটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়েছে।
বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বান্দরবানেও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। লামা উপজেলা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে আলীকদম, বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি এবং সর্বশেষ রুমা উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাঁচ উপজেলায় মোট ১০০ অসচ্ছল নারী এ সহায়তা পেয়েছেন।
সম্প্রতি রুমা উপজেলার মুনলাই পাড়া কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় এ কার্যক্রমের শেষ পর্ব। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিনিধিরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান, রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থেরসহ স্থানীয় পাড়াপ্রধান ও বিএনপির নেতারা।
পাহাড়ঘেরা রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। অভাব-অনটনের মধ্যেও অনেক নারী সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের কাছে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পাওয়া নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ে বেড়ে ওঠা নাইউচিং মার্মাও তাঁদের একজন। ছোটবেলাতেই মা-বাবাকে হারানো নাইউচিং অনাথ আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করেছেন। প্রশিক্ষণের পর সেলাই মেশিন পেয়ে এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
নাইউচিং মার্মা বলেন, ‘ছোট থেকে অনাথ আশ্রমেই বড় হয়েছি। এই সেলাই মেশিন আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস আরও বাড়িয়ে দিল।’
একই অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন পেয়েছেন চাময়া ম্রো। তাঁর বাবা মেনয়াং ম্রো মারা গেছেন এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ। দুই বোন মিলে জুম চাষ করে সংসারের ব্যয় চালানোর পাশাপাশি চাময়া বান্দরবান সরকারি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন। সেলাই মেশিনটি তাঁর জন্য আয় করার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করেন তিনি।
চাময়া ম্রো বলেন, ‘এটি আমার জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি করবে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। বসুন্ধরাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
রুমা থানার ওসি মানস বড়ুয়া বলেন, দুর্গম অঞ্চলের অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ একটি মানবিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান তিনি।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান বলেন, সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণের মাধ্যমে নারীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজকল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থের বলেন, দুর্গম এলাকার অসচ্ছল নারীদের প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারী ও কিশোরীরা দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন সহায়তার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার ১০০ নারীকে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন দেওয়ার কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বান্দরবানের ১০০ নারী পেলেন সেলাই মেশিন, খুলল স্বাবলম্বিতার দুয়ার
-
বান্দরবান প্রতিনিধি - Update Time : ১০:৩৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ২৬ Time View
Tag :
Popular Post























