আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণসুবিধা ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্য নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে গড়ে ওঠা এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ফুটবল, ক্রিকেট, স্কোয়াশ ও হকিসহ বিভিন্ন খেলার সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে। বসুন্ধরা গ্রুপের এই উদ্যোগকে দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বসুন্ধরা গ্রুপ ২০১৯ সালে এবিজি স্পোর্টস সিটি গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। এর লক্ষ্য শুধু আধুনিক মাঠ নির্মাণ নয়; বরং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের সুযোগ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের সক্ষমতা তুলে ধরা।
এই উদ্যোগের অন্যতম আকর্ষণ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। পরের বছর ৩ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ভেন্যুটিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের যাত্রা শুরু হয়। এরপর আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাঠটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
জাতীয় স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের অনুপযোগী হয়ে পড়ার সময় কিংস অ্যারেনা বাংলাদেশের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে সামনে আসে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের হোম ম্যাচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে ভেন্যুটি দেশের ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভেন্যুটির সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রতিনিধিদল মাঠ, অনুশীলন গ্রাউন্ড, খেলোয়াড়দের জিম ও পুনরুদ্ধার-সুবিধা পরিদর্শন করে। আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করছে।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের প্রত্যাশা, স্পোর্টস কমপ্লেক্সের একাডেমি থেকে ভবিষ্যতে মানসম্মত ফুটবলার উঠে আসবে। অন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রীড়ায় বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে এলে দেশের খেলাধুলার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আবদুস সাদেকও বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, মাঠ, স্টেডিয়াম ও বিভিন্ন খেলার আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় পদক্ষেপ। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও দল গঠন ও পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে এলে খেলাধুলার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।
এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি, বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইমরুল হাসান বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর আশা, আগামী কয়েক বছরে এই স্পোর্টস সিটির উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও দৃশ্যমান সুফল বয়ে আনবে।
ফুটবলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর এবিজি স্পোর্টস সিটিতে অনাবাসিক ফুটবল একাডেমি চালু করা হয়। ভবিষ্যতে আবাসিক একাডেমি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিভাবান তরুণদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেও কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পাশাপাশি প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের খেলাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া এবিজি ক্রিকেট নেটওয়ার্ক দল ক্রিকেট লিগে অংশ নিতে শুরু করেছে। এসব উদ্যোগ প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও খেলোয়াড় তৈরির সুযোগ বাড়াচ্ছে।
অন্যান্য খেলাতেও আন্তর্জাতিক আয়োজনের পরিসর বাড়ছে। সম্প্রতি এবিজি স্পোর্টস সিটিতে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশসহ ১১টি দেশের খেলোয়াড় অংশ নেন। সাত দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক কমব্যাট স্পোর্টস প্রতিযোগিতা ‘জেডএফসি-২: প্রাইড অব বাংলাদেশ’।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণে ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হকির জন্য অ্যাস্ট্রোটার্ফ স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। এসব অবকাঠামো চালু হলে অনুশীলন, প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক আয়োজনের সুযোগ আরও বাড়বে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম ‘শাহ আলম ক্রিকেট স্টেডিয়াম’, হকি স্টেডিয়ামের নাম ‘আবদুস সাদেক স্টেডিয়াম’ এবং সুইমিংপুলের নাম ‘আবদুস সোবহান সুইমিংপুল’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ইতিহাসকে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি ক্লাবকে নিয়ে ক্রীড়া ও বিনোদন উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে ক্রীড়াপ্রেমীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে যোগাযোগ ও প্রতিযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের টেকসই উন্নয়নে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের পাশাপাশি প্রয়োজন আধুনিক অবকাঠামো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রতিযোগিতার সুযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা। এবিজি স্পোর্টস সিটির উদ্যোগ এসব ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
বিভিন্ন খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন, একাডেমির মাধ্যমে খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণদের ক্রীড়ামুখী করার প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে এবিজি স্পোর্টস সিটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। উদ্যোগটি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে গেলে নতুন খেলোয়াড় তৈরি, ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বসুন্ধরা গ্রুপের হাত ধরে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত
-
স্টাফ রিপোর্টার: - Update Time : ১১:০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- ২১ Time View
Tag :
Popular Post























