বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ, তদন্ত চলমান

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোর্দ্দ মালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক স্কুলছাত্রীকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের কিছু কার্যক্রম বাকি থাকায় এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মালিবাড়ী মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. রোকন মিয়ার আট বছর বয়সী মেয়ে রুকসানা আক্তার ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম কাঠের স্কেল দিয়ে শিশুটিকে মারধর করেন। এতে তার হাতে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা।
রোকন মিয়ার দাবি, ঘটনার পর তাঁর মেয়ে বাড়িতে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। গত ৪ অক্টোবর বিদ্যালয়ে এ ঘটনার বিচার চাইতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই দিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং তাঁদের মেয়েকে আবারও মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ অক্টোবর বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শিশুটিকে পুনরায় মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে শিশুটিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান তার বাবা।
এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মো. রোকন মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের কিছু কার্যক্রম এখনো বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ করে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযোগ অস্বীকার শিক্ষিকার
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই ঘটনা মিথ্যা। আমি বাচ্চাকে কোনো আঘাত করিনি। আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগের সত্যতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ, তদন্ত চলমান

Update Time : ০৫:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোর্দ্দ মালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক স্কুলছাত্রীকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের কিছু কার্যক্রম বাকি থাকায় এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মালিবাড়ী মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. রোকন মিয়ার আট বছর বয়সী মেয়ে রুকসানা আক্তার ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম কাঠের স্কেল দিয়ে শিশুটিকে মারধর করেন। এতে তার হাতে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা।
রোকন মিয়ার দাবি, ঘটনার পর তাঁর মেয়ে বাড়িতে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। গত ৪ অক্টোবর বিদ্যালয়ে এ ঘটনার বিচার চাইতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই দিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং তাঁদের মেয়েকে আবারও মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ অক্টোবর বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শিশুটিকে পুনরায় মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে শিশুটিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান তার বাবা।
এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মো. রোকন মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের কিছু কার্যক্রম এখনো বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ করে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযোগ অস্বীকার শিক্ষিকার
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই ঘটনা মিথ্যা। আমি বাচ্চাকে কোনো আঘাত করিনি। আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগের সত্যতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।