মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীর হাতে পুঁজি দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ বাঞ্ছারামপুরে

সংসারে অভাব, হাতে পুঁজি নেই—এমন দরিদ্র নারীদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ৪২৬ জন নারীর মাঝে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ৮০ লাখ টাকা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথপুর আধুনিক মিলনায়তনে আয়োজিত ৮৪তম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী।
বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন ২০০৫ সাল থেকে বাঞ্ছারামপুরে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে এ কার্যক্রম বাঞ্ছারামপুরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনা উপজেলাতেও বিস্তৃত হয়েছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ২১ বছরে তিন উপজেলার ১০১টি গ্রামের প্রায় ৩১ হাজার দরিদ্র নারী এ ঋণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন। ঋণ পাওয়া নারীরা জানান, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, কৃষিকাজ ও ছোট ব্যবসাসহ বিভিন্ন আয়মূলক কাজে তাঁরা ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করছেন। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি নিজেদেরও আর্থিক সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। দুর্গারামপুর গ্রামের কুলসুম জানান, এর আগে তিনবার বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করে লাভবান হয়েছেন। তবে মেয়ের বিয়ে ও ছেলের পড়াশোনার খরচে সেই অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। এবার চতুর্থবার ঋণ নিয়ে আবারও আয়মূলক কাজে বিনিয়োগ করতে চান তিনি।আসাদনগর গ্রামের পারভীন আক্তার বলেন, ‘পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আমার ঋণ নেওয়া শুরু হয়েছিল। এবার পেয়েছি ২০ হাজার টাকা। কৃষিকাজ ও হাঁস-মুরগি পালন করে সংসারে সহযোগিতা করছি।’
পাড়াতলি গ্রামের মোমেনা আক্তার এবারসহ পাঁচবার ঋণ পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ঋণের অর্থ দিয়ে গরু-ছাগল পালন করে পরিবারের আয় বাড়াতে পেরেছেন। আসাদনগর গ্রামের হালিমা জানান, ঋণের টাকা স্বামীর অটোরিকশার দোকানে বিনিয়োগ করেছেন। দোকানের লাভ থেকে ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াচ্ছেন। এতে সংসারে আর্থিক স্বস্তি এসেছে।অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, উচ্চ সুদের ঋণ অনেক সময় দরিদ্র মানুষের জন্য দারিদ্র্যের চক্র আরও জটিল করে তোলে। ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এ অবস্থায় বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রম দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ এ ঋণ ব্যবস্থা উপকারভোগীদের অর্থ আয়মূলক কাজে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়। ফলে তাঁরা তাৎক্ষণিক ঋণ পরিশোধের চাপ ছাড়াই ব্যবসা বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারেন।
বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সুদ ও সার্ভিস চার্জ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মাধ্যমে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন একটি মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিন উপজেলার প্রায় ৩১ হাজার নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

বৈষম্যবিরোধী অঙ্গীকার থেকে ১১ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ

নারীর হাতে পুঁজি দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ বাঞ্ছারামপুরে

Update Time : ০৬:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসারে অভাব, হাতে পুঁজি নেই—এমন দরিদ্র নারীদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ৪২৬ জন নারীর মাঝে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ৮০ লাখ টাকা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথপুর আধুনিক মিলনায়তনে আয়োজিত ৮৪তম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী।
বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন ২০০৫ সাল থেকে বাঞ্ছারামপুরে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে এ কার্যক্রম বাঞ্ছারামপুরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনা উপজেলাতেও বিস্তৃত হয়েছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ২১ বছরে তিন উপজেলার ১০১টি গ্রামের প্রায় ৩১ হাজার দরিদ্র নারী এ ঋণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন। ঋণ পাওয়া নারীরা জানান, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, কৃষিকাজ ও ছোট ব্যবসাসহ বিভিন্ন আয়মূলক কাজে তাঁরা ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করছেন। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি নিজেদেরও আর্থিক সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। দুর্গারামপুর গ্রামের কুলসুম জানান, এর আগে তিনবার বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করে লাভবান হয়েছেন। তবে মেয়ের বিয়ে ও ছেলের পড়াশোনার খরচে সেই অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। এবার চতুর্থবার ঋণ নিয়ে আবারও আয়মূলক কাজে বিনিয়োগ করতে চান তিনি।আসাদনগর গ্রামের পারভীন আক্তার বলেন, ‘পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আমার ঋণ নেওয়া শুরু হয়েছিল। এবার পেয়েছি ২০ হাজার টাকা। কৃষিকাজ ও হাঁস-মুরগি পালন করে সংসারে সহযোগিতা করছি।’
পাড়াতলি গ্রামের মোমেনা আক্তার এবারসহ পাঁচবার ঋণ পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ঋণের অর্থ দিয়ে গরু-ছাগল পালন করে পরিবারের আয় বাড়াতে পেরেছেন। আসাদনগর গ্রামের হালিমা জানান, ঋণের টাকা স্বামীর অটোরিকশার দোকানে বিনিয়োগ করেছেন। দোকানের লাভ থেকে ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াচ্ছেন। এতে সংসারে আর্থিক স্বস্তি এসেছে।অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, উচ্চ সুদের ঋণ অনেক সময় দরিদ্র মানুষের জন্য দারিদ্র্যের চক্র আরও জটিল করে তোলে। ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এ অবস্থায় বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রম দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ এ ঋণ ব্যবস্থা উপকারভোগীদের অর্থ আয়মূলক কাজে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়। ফলে তাঁরা তাৎক্ষণিক ঋণ পরিশোধের চাপ ছাড়াই ব্যবসা বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারেন।
বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সুদ ও সার্ভিস চার্জ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মাধ্যমে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন একটি মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিন উপজেলার প্রায় ৩১ হাজার নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।’