সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম চলার সময় এ ঘটনা ঘটে।
পরে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সময় আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
বার সভাপতির অভিযোগ, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আপিল বিভাগে মামলার শুনানির গতি কমেছে। তাঁর দাবি, আগে ১১ জন বিচারপতির সমন্বয়ে তিনটি বেঞ্চ সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে একটি বেঞ্চ কার্যকর রয়েছে। এতে মামলার শুনানি ব্যাহত হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময় বাড়ছে।
বিচারিক কার্যক্রমের ধীরগতির প্রভাব আইনজীবীদের পেশাগত কাজেও পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে জুনিয়র ও সাধারণ আইনজীবীরা নিয়মিত মামলা পরিচালনার সুযোগ না পাওয়ায় তাঁদের আয় ও পেশাগত কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বার সভাপতি।
এ ছাড়া চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ ও নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিন আপিল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ থাকার বিষয়েও অভিযোগ করেন তিনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব আদেশ এক বছর বা তারও বেশি সময় বহাল থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমস্যায় পড়ছে বলে দাবি করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।
সম্প্রতি তথ্য গোপনের অভিযোগে এক জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই আইনজীবীর ওপর আরোপ করা জরিমানা অত্যধিক কঠোর হয়েছে। তিনি ওই আইনজীবীকে ক্ষমা করার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান। তবে তাঁর অনুরোধ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন বার সভাপতি।
এ ছাড়া আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় জরুরি কোনো মামলা বা বিষয়ে বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আইনজীবীদের ‘মেনশন’ করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।
কোর্টসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলার সময় এসব বিষয় নিয়ে বার সভাপতি সরাসরি কথা বলতে শুরু করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান বিচারপতি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন অপর চার বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান বলে সূত্রটি জানায়।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এমন পরিস্থিতির ঘটনায় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে বার সভাপতির উত্থাপিত অভিযোগ—আপিল বিভাগের বেঞ্চ সংখ্যা, মামলার শুনানির গতি, ‘মেনশন’ করার সুযোগ, চেম্বার আদালতের আদেশ এবং জুনিয়র আইনজীবীকে জরিমানার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
আপিল বিভাগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচ বিচারক
-
স্টাফ রিপোর্টার: - Update Time : ০৬:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ১৬ Time View
Tag :
Popular Post




















