পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা গ্রামীণ কল্যাণের পৃথক দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের রাজস্ব হিসেবে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে এ রায় দেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য পুনর্মূল্যায়নের পর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে অতিরিক্ত কর দাবি করে কর বিভাগ। এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
পরে মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রায় দেন। ওই রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে বিলম্ব মার্জনা করে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করে। পরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন।
এরপর পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন। তবে একই বছরের ২৯ আগস্ট ওই রায় প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক অতীতে এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর বিচারিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ কারণে রায়টি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় তা প্রত্যাহার করা হয়।
পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠানো হয়। ওই বেঞ্চে পুনরায় শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রিট দুটি খারিজ করে দেওয়া হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, পাঁচ করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর অনাদায়ি ছিল। কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করেছেন। ফলে সরকারের রাজস্ব হিসেবে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর কর বিভাগ ৩০ দিনের সময় দিয়ে দাবি আদায়ের জন্য ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে।
অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বিরুদ্ধে রিট দুটি করা হয়েছিল। আদালত রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
রিট খারিজ, গ্রামীণ কল্যাণকে দিতে হবে ৬৬৬ কোটি টাকা
-
বিশেষ প্রতিনিধি: - Update Time : ০৫:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ১৪ Time View
Tag :
Popular Post



















