শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে বিপুল অর্থের ক্ষতি, বেসরকারি খাতকে স্বাগত জানানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতায় বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত। গত ছয় মাসে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
বিপিসি-সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করায় গত ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানই এ লোকসানের অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, পেট্রোবাংলার হিসাবে, নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে গত ছয় মাসে এলএনজি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির উচ্চমূল্যের কারণে এই বাড়তি ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ নানা ভূরাজনৈতিক কারণ। তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং দামের ওপর এর প্রভাব পড়ায় আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রমেও।
এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের বাজারে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসা বিপিসির পাশাপাশি এখন বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের উদ্যোগে জ্বালানি তেলের বাজার আংশিকভাবে উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এর আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি আমদানি, মজুত ও সরবরাহের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাস্বার্থ নিশ্চিত করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগকে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

কয়লা দরপত্রে শর্ত প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

জ্বালানি সংকটে বিপুল অর্থের ক্ষতি, বেসরকারি খাতকে স্বাগত জানানোর উদ্যোগ

Update Time : ০৭:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতায় বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত। গত ছয় মাসে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
বিপিসি-সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করায় গত ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানই এ লোকসানের অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, পেট্রোবাংলার হিসাবে, নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে গত ছয় মাসে এলএনজি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির উচ্চমূল্যের কারণে এই বাড়তি ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ নানা ভূরাজনৈতিক কারণ। তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং দামের ওপর এর প্রভাব পড়ায় আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রমেও।
এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের বাজারে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসা বিপিসির পাশাপাশি এখন বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের উদ্যোগে জ্বালানি তেলের বাজার আংশিকভাবে উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এর আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি আমদানি, মজুত ও সরবরাহের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাস্বার্থ নিশ্চিত করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগকে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।