শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলজিইডি গাইবান্ধায় দায়িত্ব হস্তান্তর জটিলতা, ভোগান্তিতে ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতারা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ

গত এক সপ্তাহ ধরে নাটকীয়তা চলছে গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে। একই পদে এক রুমে বসেই অফিস করছেন দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ঠিকাদারসহ সেবাগ্রহীতারা।

জানা গেছে, গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো. সাইফুল ইসলাম ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে যোগদান করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান কার্যালয় থেকে আব্দুল আজিজ নামে এক প্রকৌশলীকে চলতি মাসের ১৫ তারিখ গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে বদলির আদেশ জারি হয়। আর সাইফুল ইসলামকে ঢাকা হেড অফিসে সংযুক্ত করা হয়। সেই বদলি আদেশ নিয়ে চলতি মাসের ২১ তারিখে গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে যোগদান করেন আব্দুল আজিজ। তবে গত আটদিন একই অফিসে দুইজনই নির্বাহী দাবি করে এক কক্ষেই অফিস করছেন। এতে বিপাকে পড়ছেন দপ্তরের ঠিকাদারসহ সেবাগৃহীতারা।

সরেজমিনে গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে দেখা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী লেখা নেমপ্লেট সংবলিত রুমে দুইজন ব্যক্তি কাজ করছেন। তারা দুইজনই নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করছেন। ঠিকাদাররা বিভিন্ন রুমে আড্ডা দিচ্ছেন। অনেকেই আবার নির্বাহী প্রকৌশল হিসেবে কে দায়িত্বে থাকবেন, সেই বিষয় নিয়ে হিসাব কষছেন। আবার অনেক ঠিকাদার তাদের বিলসহ অন্য হিসাব নিয়ে আগের দায়িত্ব থাকা নির্বাহীর কাছে ছুটছেন। কে নির্বাহী প্রকৌশলী এ নিয়ে অনেক ঠিকাদারের কপালে দুশ্চিন্তায় ভাঁজ।

নাম প্রকাশন না করার শর্তে এলজিইডির এক কর্মচারী বলেন, আগের নির্বাহী প্রকৌশলীই থাকবেন। এই অফিসের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিনের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জে। ওখানে আমাদের দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি। তার ছেলের সঙ্গে সহকারী প্রকৌশলী লবিং করছেন আগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে আটকানোর জন্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার বলেন, দুইজন ব্যক্তি নির্বাহীর দাবি করছেন। আমরা চিন্তায় আছি। সাইফুল তো ম্যানুয়াল অনুয়ারি কাজের দুই ভাগ টাকা অনুমোদনের সময় নিয়েছেন। এখন বর্তমান যিনি ঢাকায় থেকে আসছেন তিনি যদি আবার আগের ব্যক্তির হিসাব না মানেন, তাহলে সব ঠিকাদারে ব্যবসায় ধস নামবে।

সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের পক্ষে নিয়ে বলেন, নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর বিষয়ে আমি কোনো চিঠি পাইনি। আপনারা যেটুকু জানেন আমিও সেটুকু জানি। তবে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী বিভিন্ন সাইট পরিদর্শন করেছেন।

তবে এলজিইডির বদলিপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বদলির আদেশ চলতি মাসের ১৫ তারিখে হয়েছে। মেইলে পেয়েছি ১৬ তারিখে। এই কর্মস্থলে আমার মাত্র আট মাস হয়েছে। সাধারণ বদলির বিষয়টি আমি যতদূর জানি আমাদের এক থেকে তিন বছরের মধ্যে বদলি হয়। তবে হঠাৎ করে বদলি করার কোনো মানে হয়। দপ্তরে আমার অসম্পূর্ণ অনেক কাজ আছে। সেগুলো সম্পূর্ণ করে ঠিক সময়ে দায়িত্ব বুঝে দেবো। এর মধ্যে এমনও খবর আসতে পারে- আমি এখানেই বহাল আছি।

অপরদিকে নবাগত এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, এখানে আমি নতুন জয়েন করেছি এক সপ্তাহ আগে। আমাকে দায়িত্ব বুঝে না দিয়ে তালবাহানা শুরু করছেন আগের কর্মকর্তা। ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি এমন আচরণ করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

এলজিইডি গাইবান্ধায় দায়িত্ব হস্তান্তর জটিলতা, ভোগান্তিতে ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতারা

এলজিইডি গাইবান্ধায় দায়িত্ব হস্তান্তর জটিলতা, ভোগান্তিতে ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতারা

Update Time : ০৮:৪৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ

গত এক সপ্তাহ ধরে নাটকীয়তা চলছে গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে। একই পদে এক রুমে বসেই অফিস করছেন দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ঠিকাদারসহ সেবাগ্রহীতারা।

জানা গেছে, গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো. সাইফুল ইসলাম ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে যোগদান করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান কার্যালয় থেকে আব্দুল আজিজ নামে এক প্রকৌশলীকে চলতি মাসের ১৫ তারিখ গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে বদলির আদেশ জারি হয়। আর সাইফুল ইসলামকে ঢাকা হেড অফিসে সংযুক্ত করা হয়। সেই বদলি আদেশ নিয়ে চলতি মাসের ২১ তারিখে গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে যোগদান করেন আব্দুল আজিজ। তবে গত আটদিন একই অফিসে দুইজনই নির্বাহী দাবি করে এক কক্ষেই অফিস করছেন। এতে বিপাকে পড়ছেন দপ্তরের ঠিকাদারসহ সেবাগৃহীতারা।

সরেজমিনে গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে দেখা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী লেখা নেমপ্লেট সংবলিত রুমে দুইজন ব্যক্তি কাজ করছেন। তারা দুইজনই নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করছেন। ঠিকাদাররা বিভিন্ন রুমে আড্ডা দিচ্ছেন। অনেকেই আবার নির্বাহী প্রকৌশল হিসেবে কে দায়িত্বে থাকবেন, সেই বিষয় নিয়ে হিসাব কষছেন। আবার অনেক ঠিকাদার তাদের বিলসহ অন্য হিসাব নিয়ে আগের দায়িত্ব থাকা নির্বাহীর কাছে ছুটছেন। কে নির্বাহী প্রকৌশলী এ নিয়ে অনেক ঠিকাদারের কপালে দুশ্চিন্তায় ভাঁজ।

নাম প্রকাশন না করার শর্তে এলজিইডির এক কর্মচারী বলেন, আগের নির্বাহী প্রকৌশলীই থাকবেন। এই অফিসের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিনের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জে। ওখানে আমাদের দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি। তার ছেলের সঙ্গে সহকারী প্রকৌশলী লবিং করছেন আগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে আটকানোর জন্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার বলেন, দুইজন ব্যক্তি নির্বাহীর দাবি করছেন। আমরা চিন্তায় আছি। সাইফুল তো ম্যানুয়াল অনুয়ারি কাজের দুই ভাগ টাকা অনুমোদনের সময় নিয়েছেন। এখন বর্তমান যিনি ঢাকায় থেকে আসছেন তিনি যদি আবার আগের ব্যক্তির হিসাব না মানেন, তাহলে সব ঠিকাদারে ব্যবসায় ধস নামবে।

সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের পক্ষে নিয়ে বলেন, নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর বিষয়ে আমি কোনো চিঠি পাইনি। আপনারা যেটুকু জানেন আমিও সেটুকু জানি। তবে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী বিভিন্ন সাইট পরিদর্শন করেছেন।

তবে এলজিইডির বদলিপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বদলির আদেশ চলতি মাসের ১৫ তারিখে হয়েছে। মেইলে পেয়েছি ১৬ তারিখে। এই কর্মস্থলে আমার মাত্র আট মাস হয়েছে। সাধারণ বদলির বিষয়টি আমি যতদূর জানি আমাদের এক থেকে তিন বছরের মধ্যে বদলি হয়। তবে হঠাৎ করে বদলি করার কোনো মানে হয়। দপ্তরে আমার অসম্পূর্ণ অনেক কাজ আছে। সেগুলো সম্পূর্ণ করে ঠিক সময়ে দায়িত্ব বুঝে দেবো। এর মধ্যে এমনও খবর আসতে পারে- আমি এখানেই বহাল আছি।

অপরদিকে নবাগত এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, এখানে আমি নতুন জয়েন করেছি এক সপ্তাহ আগে। আমাকে দায়িত্ব বুঝে না দিয়ে তালবাহানা শুরু করছেন আগের কর্মকর্তা। ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি এমন আচরণ করছেন।