অভাব-অনটন কাটিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ১৬৮ নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা সুদ, সার্ভিস চার্জ ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল উপজেলার আকানগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফাউন্ডেশনের ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই।
মো. চাঁনমিয়া সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই বলেন, চড়া সুদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে অসচ্ছল নারীরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এ কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেই ভূমিকা রাখছে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি ঋণের অর্থ সৎ ও বৈধ উপায়ে আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঋণের টাকা কোনো অবৈধ কাজে ব্যয় না করার পরামর্শ দেন।
বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এসব উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাঁদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে।
ঋণের অর্থ পেয়ে নতুন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন উপকারভোগীরা। নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের শিল্পী আক্তার (৩০) জানান, ঋণের টাকা কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান তিনি। একই উপজেলার বাড়াইল গ্রামের মর্জিনা আক্তার (৩৫) বলেন, তাঁর স্বামী কৃষিকাজ করেন। ঋণের অর্থ কৃষিকাজে বিনিয়োগ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চান তাঁরা।
অন্যদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আকানগর গ্রামের গীতা রানী (৩৮) জানান, আগেরবার ঋণের টাকা দিয়ে তাঁর স্বামী আসবাবপত্র তৈরি করে বিক্রি করেছিলেন। এবার পাওয়া ঋণের অর্থ দিয়ে একটি গরু কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এতে পরিবারের আয় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ৫০ জন নারীকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়বার ২২ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং তৃতীয়বার ২১ জনকে ২০ হাজার টাকা করে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া চতুর্থবারের মতো ৭৫ জন নারীকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কোনো সুদ, সার্ভিস চার্জ কিংবা জামানত ছাড়াই বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ ঋণ কার্যক্রম সুবিধাবঞ্চিত নারীদের ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে তাঁদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বাঞ্ছারামপুরে ১৬৮ নারী পেলেন ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ
-
স্টাফ রিপোর্টার: - Update Time : ০১:১৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- ১৮ Time View
Tag :
Popular Post











