শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক সন্ধ্যায় মোগল আভিজাত্য, সুফি সুর আর রসনার তৃপ্তি

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝে ইতিহাস, সংস্কৃতি, সংগীত আর ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদে ভিন্নধর্মী এক সন্ধ্যার আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট। মোগল আমলের রন্ধনশৈলী, সুফি সংগীত আর রাজকীয় সাজসজ্জার সমন্বয়ে শুরু হয়েছে আট সপ্তাহব্যাপী বিশেষ আয়োজন ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’।
গত শুক্রবার রাতে ‘সুফি মিউজিক এডিশন’ শিরোনামে আয়োজনটির প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে সংগীত ও খাবারের এই বিশেষ আসর।
রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতেই অতিথিদের স্বাগত জানায় সুফি সংগীতের মায়াবী সুর। প্রেম, বিরহ ও আত্মিক উপলব্ধির আবেশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো পরিবেশে। মঞ্চে চলতে থাকে সংগীত পরিবেশনা, আর অতিথিদের টেবিলে পরিবেশন করা হয় মোগল আমলের রন্ধনশৈলী অনুসরণে তৈরি নানা পদ। আলো, সাজসজ্জা ও সংগীতের মেলবন্ধনে তৈরি হয় এক রাজকীয় আবহ।
ছুটির সন্ধ্যায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই অংশ নেন এ আয়োজনে। খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি সংগীতের সুরে তাঁরা উপভোগ করেন ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ মোগল আমলের ঐতিহ্যবাহী খাবার। প্রাচীন রন্ধনপ্রণালি অনুসরণে তৈরি এসব খাবার পরিবেশন করা হয় বিশেষ আয়োজনে। পরিবেশনকর্মীদের মোগল আমলের পোশাকও পুরো পরিবেশে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। খাবারের স্বাদ ও উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে ঐতিহাসিক রন্ধনসংস্কৃতির আভিজাত্য।
আয়োজকদের ভাষ্য, মোগল খাবারের সঙ্গে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্ক। সেই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং সংগীতের সঙ্গে খাবারের এক অনন্য সমন্বয় তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আট সপ্তাহের এ আয়োজনে প্রতি শুক্রবার থাকছে সংগীতের ভিন্ন ভিন্ন ধারা। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রসংগীত, ১৩ নভেম্বর নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গান এবং ২০ নভেম্বর নজরুলগীতি। ২৭ নভেম্বর থাকছে কালজয়ী বাংলা গান। এ ছাড়া ৪ ডিসেম্বর পিয়ানো ও কণ্ঠসংগীত, ১১ ডিসেম্বর শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত এবং ১৮ ডিসেম্বর লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আয়োজনটি।
প্রতি শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলবে এ সংগীতের আসর। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা ও মোগলীয় আবহের সমন্বয়ে ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’ সংগীতপ্রেমী ও ভোজনরসিকদের জন্য হয়ে উঠবে স্মরণীয় আয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

আইসিসিবিতে জমজমাট গাড়ির বাজার, কেনাকাটায় নানা উপহার

এক সন্ধ্যায় মোগল আভিজাত্য, সুফি সুর আর রসনার তৃপ্তি

Update Time : ০৬:৩২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝে ইতিহাস, সংস্কৃতি, সংগীত আর ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদে ভিন্নধর্মী এক সন্ধ্যার আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট। মোগল আমলের রন্ধনশৈলী, সুফি সংগীত আর রাজকীয় সাজসজ্জার সমন্বয়ে শুরু হয়েছে আট সপ্তাহব্যাপী বিশেষ আয়োজন ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’।
গত শুক্রবার রাতে ‘সুফি মিউজিক এডিশন’ শিরোনামে আয়োজনটির প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে সংগীত ও খাবারের এই বিশেষ আসর।
রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতেই অতিথিদের স্বাগত জানায় সুফি সংগীতের মায়াবী সুর। প্রেম, বিরহ ও আত্মিক উপলব্ধির আবেশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো পরিবেশে। মঞ্চে চলতে থাকে সংগীত পরিবেশনা, আর অতিথিদের টেবিলে পরিবেশন করা হয় মোগল আমলের রন্ধনশৈলী অনুসরণে তৈরি নানা পদ। আলো, সাজসজ্জা ও সংগীতের মেলবন্ধনে তৈরি হয় এক রাজকীয় আবহ।
ছুটির সন্ধ্যায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই অংশ নেন এ আয়োজনে। খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি সংগীতের সুরে তাঁরা উপভোগ করেন ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ মোগল আমলের ঐতিহ্যবাহী খাবার। প্রাচীন রন্ধনপ্রণালি অনুসরণে তৈরি এসব খাবার পরিবেশন করা হয় বিশেষ আয়োজনে। পরিবেশনকর্মীদের মোগল আমলের পোশাকও পুরো পরিবেশে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। খাবারের স্বাদ ও উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে ঐতিহাসিক রন্ধনসংস্কৃতির আভিজাত্য।
আয়োজকদের ভাষ্য, মোগল খাবারের সঙ্গে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্ক। সেই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং সংগীতের সঙ্গে খাবারের এক অনন্য সমন্বয় তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আট সপ্তাহের এ আয়োজনে প্রতি শুক্রবার থাকছে সংগীতের ভিন্ন ভিন্ন ধারা। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রসংগীত, ১৩ নভেম্বর নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গান এবং ২০ নভেম্বর নজরুলগীতি। ২৭ নভেম্বর থাকছে কালজয়ী বাংলা গান। এ ছাড়া ৪ ডিসেম্বর পিয়ানো ও কণ্ঠসংগীত, ১১ ডিসেম্বর শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত এবং ১৮ ডিসেম্বর লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আয়োজনটি।
প্রতি শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলবে এ সংগীতের আসর। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা ও মোগলীয় আবহের সমন্বয়ে ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’ সংগীতপ্রেমী ও ভোজনরসিকদের জন্য হয়ে উঠবে স্মরণীয় আয়োজন।