বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নীরবে মানবতার আলো ছড়াচ্ছে গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ১০৮ Time View

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার ছিন্নমূল, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা’। ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধকে ভিত্তি ধরে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি নীরবে-নিভৃতে সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ করে আসছে।
প্রতিষ্ঠার ছয় বছরের মধ্যেই সংগঠনটি গাইবান্ধায় একটি মানবিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে পরিচয়হীন ও বেওয়ারিশ মরদেহ সংরক্ষণে তারা যে অসাধারণ উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে, তা সমগ্র জেলার মানুষের কাছে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংগঠনটি মাত্র একটি ফ্রিজিং কফিন ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত ১৮০টি মরদেহ সংরক্ষণ করে ।জেলার কোথাও মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় এই একটি মাত্র কফিন ।

রমজান মাস এলেই সংগঠনটির ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। স্টেশন, ফুটপাত, টার্মিনাল ও বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ঘুরে ছিন্নমূল ও দুঃস্থ মানুষের জন্য সেহেরি বিতরণ করে তারা। দিনমজুর, পথশিশু, বৃদ্ধ কিংবা ভবঘুরে যিনিই থাকুন না কেন, তাদের কাছে একবেলা খাবারের নিশ্চয়তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।
মানবিক কাজের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে সংগঠনটি। অসহায় পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ এলাকার মানুষকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
বর্তমানে সংস্থাটিতে ১০০ জন সক্রিয় সদস্য যুক্ত আছেন, যারা প্রতিদিন নিজস্ব সামর্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবার মনোভাব নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। দিন-রাতের বিভিন্ন সময়ে কারো মৃত্যু, দুর্ঘটনা বা বিপদের খবর পেলেই সদস্যরা ছুটে যান ঘটনাস্থলে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কায়ছার প্লাবন জানান, মানবসেবাকে নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেই সংগঠনটি গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকা আমাদের প্রথম লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে করতেই ছয় বছর কেটে গেছে। ভবিষ্যতে আমরা একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে অসহায় ও নিঃস্বজন প্রবীণ মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে পারি।”

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা দায়রা জজ আদালতের জেষ্ঠ আইনজীবী ও সংস্থাটির সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম ফকু বলেন , ” গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা আজ শুধুই একটি সংগঠনের নাম নয় এটি মানবতার কান্ডারী। অচেনা মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ তারা প্রদর্শন করছে, তা গাইবান্ধা সমাজে একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

গাইবান্ধায় জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নীরবে মানবতার আলো ছড়াচ্ছে গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা

Update Time : ০৫:১২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার ছিন্নমূল, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা’। ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধকে ভিত্তি ধরে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি নীরবে-নিভৃতে সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ করে আসছে।
প্রতিষ্ঠার ছয় বছরের মধ্যেই সংগঠনটি গাইবান্ধায় একটি মানবিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে পরিচয়হীন ও বেওয়ারিশ মরদেহ সংরক্ষণে তারা যে অসাধারণ উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে, তা সমগ্র জেলার মানুষের কাছে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংগঠনটি মাত্র একটি ফ্রিজিং কফিন ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত ১৮০টি মরদেহ সংরক্ষণ করে ।জেলার কোথাও মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় এই একটি মাত্র কফিন ।

রমজান মাস এলেই সংগঠনটির ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। স্টেশন, ফুটপাত, টার্মিনাল ও বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ঘুরে ছিন্নমূল ও দুঃস্থ মানুষের জন্য সেহেরি বিতরণ করে তারা। দিনমজুর, পথশিশু, বৃদ্ধ কিংবা ভবঘুরে যিনিই থাকুন না কেন, তাদের কাছে একবেলা খাবারের নিশ্চয়তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।
মানবিক কাজের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে সংগঠনটি। অসহায় পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ এলাকার মানুষকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
বর্তমানে সংস্থাটিতে ১০০ জন সক্রিয় সদস্য যুক্ত আছেন, যারা প্রতিদিন নিজস্ব সামর্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবার মনোভাব নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। দিন-রাতের বিভিন্ন সময়ে কারো মৃত্যু, দুর্ঘটনা বা বিপদের খবর পেলেই সদস্যরা ছুটে যান ঘটনাস্থলে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কায়ছার প্লাবন জানান, মানবসেবাকে নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেই সংগঠনটি গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকা আমাদের প্রথম লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে করতেই ছয় বছর কেটে গেছে। ভবিষ্যতে আমরা একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে অসহায় ও নিঃস্বজন প্রবীণ মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে পারি।”

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা দায়রা জজ আদালতের জেষ্ঠ আইনজীবী ও সংস্থাটির সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম ফকু বলেন , ” গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা আজ শুধুই একটি সংগঠনের নাম নয় এটি মানবতার কান্ডারী। অচেনা মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ তারা প্রদর্শন করছে, তা গাইবান্ধা সমাজে একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।”