শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৩ বছরের টিনের চালাঘর পেরিয়ে স্থায়ী ঠিকানার পথে ভাওয়াইয়া পরিষদ

উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ভাওয়াইয়ার চর্চা, সংরক্ষণ ও প্রসারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। দীর্ঘ ৩৩ বছর টিনের চালাঘরে কার্যক্রম পরিচালনার পর এবার স্থায়ী বহুতল ভবন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে শুক্রবার দুপুরে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে এ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকাবাসী সহযোগিতা করছেন।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সংগীতচর্চা ও শিল্পী তৈরির কাজ চালিয়ে আসছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সংগঠনটি থেকে প্রায় তিন হাজার ভাওয়াইয়া শিল্পী তৈরি হয়েছেন, যাঁদের অনেকেই দেশ-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছেন।
সংগঠনটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও শিল্পীদের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সমাজসেবী গেলাপ হোসেনের দান করা পাঁচ শতক জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে ভবনটি। প্রকল্প বাস্তবায়নে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ভুপতি ভূষণ বর্মা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বশীর আহমেদ।
এতে বক্তব্য দেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী, পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল, সাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদুর রহমান, কসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মমিন এবং জমিদাতা গেলাপ উদ্দিনের ছেলে এনামুর রহমানসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি খন্দকার একরামুল হক সম্রাট ও নিউজ২৪-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর সূর্য।
বক্তারা বলেন, ভাওয়াইয়া শুধু গান নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ ও লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে সংগীতচর্চা, প্রশিক্ষণ ও শিল্পী তৈরির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।
তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি নতুন প্রজন্মের কাছে ভাওয়াইয়া সংগীতের চর্চা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের এই সমৃদ্ধ লোকসংগীত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি পাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

Popular Post

আইসিসিবিতে জমজমাট গাড়ির বাজার, কেনাকাটায় নানা উপহার

৩৩ বছরের টিনের চালাঘর পেরিয়ে স্থায়ী ঠিকানার পথে ভাওয়াইয়া পরিষদ

Update Time : ০৬:২৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ভাওয়াইয়ার চর্চা, সংরক্ষণ ও প্রসারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। দীর্ঘ ৩৩ বছর টিনের চালাঘরে কার্যক্রম পরিচালনার পর এবার স্থায়ী বহুতল ভবন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে শুক্রবার দুপুরে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে এ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকাবাসী সহযোগিতা করছেন।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সংগীতচর্চা ও শিল্পী তৈরির কাজ চালিয়ে আসছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সংগঠনটি থেকে প্রায় তিন হাজার ভাওয়াইয়া শিল্পী তৈরি হয়েছেন, যাঁদের অনেকেই দেশ-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছেন।
সংগঠনটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও শিল্পীদের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সমাজসেবী গেলাপ হোসেনের দান করা পাঁচ শতক জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে ভবনটি। প্রকল্প বাস্তবায়নে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ভুপতি ভূষণ বর্মা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বশীর আহমেদ।
এতে বক্তব্য দেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী, পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল, সাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদুর রহমান, কসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মমিন এবং জমিদাতা গেলাপ উদ্দিনের ছেলে এনামুর রহমানসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি খন্দকার একরামুল হক সম্রাট ও নিউজ২৪-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর সূর্য।
বক্তারা বলেন, ভাওয়াইয়া শুধু গান নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ ও লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে সংগীতচর্চা, প্রশিক্ষণ ও শিল্পী তৈরির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।
তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি নতুন প্রজন্মের কাছে ভাওয়াইয়া সংগীতের চর্চা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের এই সমৃদ্ধ লোকসংগীত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি পাবে।