বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় সেই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আরেক রোগিকে মারধরের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ১০৯ Time View
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার গণউন্নয়ন কেন্দ্র পরিচালিত সেই জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সাগর মিয়া (২৪) নামের আরেক রোগিকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, গত ৯ ফেব্রুয়ারি একই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মানষিক ভারসাম্যহীন মুর্শিদ হক্কানীকে মারধর মামলায় পুলিশকে সাক্ষী দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত নয়টার দিকে এই ঘটনায় সাগর মিয়ার বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালামকে (৬৫) প্রধান এবং মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কর্মরত রাফি (৩০) ও সাহান (৩০) সহ তিনজনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছযজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়।
অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে সদর থানায় ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে টর্চার সেল তৈরি করা হয়েছে। সাগর মিয়া একজন মাদকসেবী হওয়ায় একমাস আগে এম আবদুস সালাম পরিচালিত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ইতোপুর্বে একই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মুর্শিদ হক্কানীকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের কাছে সাক্ষ্য প্রদান করে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজন বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা আসামীদের সহকর্মীরা সাগর মিয়ার ওপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছিল। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রে গেলে প্রথমে তারা সাগরকে দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে চাপ প্রয়োগ করলে অসুস্থ অবস্থায় সাগরকে সামনে আনা হয়।জিজ্ঞাসা করলে সাগর মিয়া জানায় যে, গত ৩০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে আসামিরা সাগরের দুই হাত পা বেধে মারধর করে এবং গরম পানি নাগের মধ্যে ঢেলে দেয়। এতে সাগরের কোমরের হাড় ও ডান পায়ের হাটুর নিচে জখম হয়। পরে প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় সাগরকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগকারি রেজাউল ইসলাম জানান, ‘আমি ছেলেকে সুস্থ হওয়ার জন্য এখানে ভর্তি করেছিলাম। এখন অসুস্থ অবস্থায় ফিরে নিয়ে আসতে হলো। এই ঘটনার বিচার চাই’।
   এসব বিষয়ে শুক্রবার রাত ১০টায় গাইবান্ধার বেসরকারি সংগঠন গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। পরে তাঁর ব্যক্তিগত হোয়োটসআপে সাগর মিয়া ও তার পরিবারের লোকজনের ভিডিও বক্তব্য এবং সাগরের চিকিৎসাধীন ছবি এবং বক্তব্যের জন্য ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এরআগে গত বছরের ২৮ আগষ্ট গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফারাজিপাড়া গ্রামের মুর্শিদ হক্কানীকে (৩৭) গাইবান্ধা শহরের ভি-এইড রোডের ‘জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ ভর্তি করা হয়। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাধন (৩৫), লাবিব (৩২), শিহাব (৩৫), আতিফ (৩৬) ও তালহা (৩৫) তার মুখের ভিতরে কাপড় ঢুকিয়ে লোহার রড দিয়ে  ডান ও বামহাতে, পিঠে, দুই উরুতে, দুইপায়ের হাটুতে, বামহাতের তালুতে মারধর করেন।
অসুস্থ অবস্থায় তাকে ১১ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভতি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় মুর্শিদের বড়ভাই আওরঙ্গ হক্কানী বাদী হয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর আমলী আদালত শুনানী শেষে আসামীদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে অভিযুক্ত পাঁচজন আসামি কারাগারে রয়েছেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Kaysar Plabon

গাইবান্ধায় জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধায় সেই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আরেক রোগিকে মারধরের অভিযোগ

Update Time : ০৫:০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার গণউন্নয়ন কেন্দ্র পরিচালিত সেই জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সাগর মিয়া (২৪) নামের আরেক রোগিকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, গত ৯ ফেব্রুয়ারি একই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মানষিক ভারসাম্যহীন মুর্শিদ হক্কানীকে মারধর মামলায় পুলিশকে সাক্ষী দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত নয়টার দিকে এই ঘটনায় সাগর মিয়ার বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালামকে (৬৫) প্রধান এবং মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কর্মরত রাফি (৩০) ও সাহান (৩০) সহ তিনজনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছযজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়।
অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে সদর থানায় ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে টর্চার সেল তৈরি করা হয়েছে। সাগর মিয়া একজন মাদকসেবী হওয়ায় একমাস আগে এম আবদুস সালাম পরিচালিত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ইতোপুর্বে একই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মুর্শিদ হক্কানীকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের কাছে সাক্ষ্য প্রদান করে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজন বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা আসামীদের সহকর্মীরা সাগর মিয়ার ওপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছিল। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রে গেলে প্রথমে তারা সাগরকে দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে চাপ প্রয়োগ করলে অসুস্থ অবস্থায় সাগরকে সামনে আনা হয়।জিজ্ঞাসা করলে সাগর মিয়া জানায় যে, গত ৩০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে আসামিরা সাগরের দুই হাত পা বেধে মারধর করে এবং গরম পানি নাগের মধ্যে ঢেলে দেয়। এতে সাগরের কোমরের হাড় ও ডান পায়ের হাটুর নিচে জখম হয়। পরে প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় সাগরকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগকারি রেজাউল ইসলাম জানান, ‘আমি ছেলেকে সুস্থ হওয়ার জন্য এখানে ভর্তি করেছিলাম। এখন অসুস্থ অবস্থায় ফিরে নিয়ে আসতে হলো। এই ঘটনার বিচার চাই’।
   এসব বিষয়ে শুক্রবার রাত ১০টায় গাইবান্ধার বেসরকারি সংগঠন গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। পরে তাঁর ব্যক্তিগত হোয়োটসআপে সাগর মিয়া ও তার পরিবারের লোকজনের ভিডিও বক্তব্য এবং সাগরের চিকিৎসাধীন ছবি এবং বক্তব্যের জন্য ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এরআগে গত বছরের ২৮ আগষ্ট গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফারাজিপাড়া গ্রামের মুর্শিদ হক্কানীকে (৩৭) গাইবান্ধা শহরের ভি-এইড রোডের ‘জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ ভর্তি করা হয়। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাধন (৩৫), লাবিব (৩২), শিহাব (৩৫), আতিফ (৩৬) ও তালহা (৩৫) তার মুখের ভিতরে কাপড় ঢুকিয়ে লোহার রড দিয়ে  ডান ও বামহাতে, পিঠে, দুই উরুতে, দুইপায়ের হাটুতে, বামহাতের তালুতে মারধর করেন।
অসুস্থ অবস্থায় তাকে ১১ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভতি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় মুর্শিদের বড়ভাই আওরঙ্গ হক্কানী বাদী হয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর আমলী আদালত শুনানী শেষে আসামীদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে অভিযুক্ত পাঁচজন আসামি কারাগারে রয়েছেন।